পাখিরাই জীবন্ত ডাইনোসর

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৪ এএম

৬৬ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবী ছিল ডাইনোসরের স্বর্গরাজ্য। হঠাৎ মেক্সিকোর বর্তমান ইউকাটান অঞ্চলে আছড়ে পড়ে বিশাল অ্যাস্টেরয়েড। তখন মুহূর্তে বদলে যায় পৃথিবীর ভাগ্য। আগুন, ভূমিকম্প, সুনামি আর বছরের পর বছর সূর্যের আলোহীন অন্ধকার এই মহাবিপর্যয়ে পৃথিবীর প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রজাতি বিলুপ্ত হয়। তখনই সব ডাইনোসর নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ডাইনোসরের বিশেষ শাখা, অর্থাৎ পাখি এই ধ্বংসযজ্ঞ পেরিয়ে টিকে থাকে। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে,  এর পেছনে ছিল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণ। প্রথমত, আকার। পাখিরা ছিল তুলনামূলকভাবে ছোট। ফলে খাদ্যের প্রয়োজন ছিল কম। দ্বিতীয়ত, উড়তে পারার ক্ষমতা তাদের দ্রুত বিপদ এলাকা  থেকে সরে যেতে সাহায্য করে। কিন্তু আসল পার্থক্য, খাদ্যাভ্যাস এবং বাসস্থান। যখন গাছপালা ধ্বংস হয়ে যায়, তখন অনেক প্রাণী খাবারের অভাবে মারা যায়। কিন্তু পাখিরা বীজ খেতে পারার কারণে, টিকে থাকে। আধুনিক পাখির পূর্বপুরুষরা বেশিরভাগ মাটি বা পানির কাছাকাছি থাকত। যেখানে ক্ষতি ছিল, তুলনামূলক কম। দাঁতবিহীন   ঠোঁট, শক্তিশালী ডানা এবং দ্রুত বৃদ্ধি এই বৈশিষ্ট্যগুলো তাদের  বেঁচে থাকার মূল অস্ত্র ছিল। আজকের ১০,০০০-এর বেশি পাখি প্রজাতি, সেই বিজয়ের প্রমাণ। তারা আসলে জীবন্ত ডাইনোসর। যারা মহাপ্রলয়ের পর নতুন পৃথিবী গড়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত