ইরানের সঙ্গে চলমান সংবেদনশীল যুদ্ধবিরতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক অনুষ্ঠানের বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক মহলে ‘ইরান যুদ্ধের’ যোগসাজশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই হামলার পেছনে ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
বর্তমানে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের ওপর হামলার চেষ্টা হওয়ায় অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন এটি কোনো বৃহত্তর যুদ্ধের সংঘাত হতে পারে। তবে এক সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, আমার মনে হয় না এর সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কোনো সম্পর্ক ছিল।
ট্রাম্প আরও বলেন, তাকে লক্ষ্য করেই সম্ভবত এই হামলা চালানো হয়েছিল, তবে এর পেছনে কোনো শক্তিশালী গোষ্ঠী বা অন্য কোনো দেশের হাত নেই। তিনি আটককৃত ব্যক্তিকে একজন ‘একক সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
শনিবার রাতে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উপস্থিত হওয়ার কিছুক্ষণ পরই অনুষ্ঠানের বাইরে গুলির শব্দ শোনা যায়। সাথে সাথে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা প্রেসিডেন্টকে স্টেজ থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে পুরো অনুষ্ঠানস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হামলাকারীকে তৎক্ষণাৎ আটক করা হয়েছে। তার নাম কোল টমাস অ্যালেন (৩১)। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার টরেন্সের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। সন্দেহভাজন এই ব্যক্তি একাই এই হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন এবং তিনি এক ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। বর্তমানে পুরো এলাকা কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা রয়েছে এবং এফবিআইসহ অন্যান্য সংস্থা বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখছে।
