দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যখন ভ্যাপসা গরম, তখন ঠিক উল্টো চিত্র উত্তরের বিভাগ রংপুরে! দুপুর ১২টা বাজলেও বাইরে দেখে বোঝার উপায় নেই। একটানা মেঘের গর্জন আর অবিরাম বৃষ্টি। নীলফামারী, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রামে দুপুর পর্যন্ত বজ্রবৃষ্টি চলছিল। তাপমাত্রা নেমে গেছে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে! এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিস্তার উজানে ভারীবৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া গেছে। টানা বৃষ্টির কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। ক্ষতির মুখে পড়তে পারে ফসলি জমি।
নীলফামারীতে শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত ১২টার পর থেকে দমকা হাওয়া শুরু হয়। ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয় রাত ১টার পর। যা রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুর ৩টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্নস্থানে চলমান আছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া প্রবল বর্ষণে নীলফামারীসহ রংপুর বিভাগের আট জেলার নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) আবহাওয়া অফিসের সূত্র মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় (আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত) বিভাগীয় শহর রংপুর জেলা তথা সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ১২৭ মিলিমিটার। এ ছাড়া নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৪৭ মি.মি ও ডিমলায় ৫ মি.মি, দিনাজপুরে ৩৩ মি.মি, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৩৩ মি.মি ও কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অপরদিকে নীলফামারী জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র মতে, সকাল ৯টা পর্যন্ত নীলফামারী সদরে ৫৮ মি.মি, তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে ১৮ মি.মি ও তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানি কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস সর্তকীকরণ কেন্দ্রের সূত্র মতে, ১২ ঘণ্টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পায় ২৫ সেন্টিমিটার। কেন্দ্রের গেজ রিডার নুরুল ইসলাম জানান, শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা ব্যারেজে পানির লেভেল ছিল ৫০.৪৫ সেন্টিমিটার। যা আজ রবিবার সকাল ৯টায় ৫০.৭০ সেন্টিমিটার। এই পয়েন্টে তিস্তার বিপদসীমা ৫২.১৫ সেন্টিমিটার।
তিনি আরও জানান, তিস্তার উজানে ভারীবৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া গিয়েছে। আমরা নজরদারী করছি। ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারেন বলে তিনি যোগ করেন।
ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীর চরখড়িবাড়ি এলাকার কৃষক ইসমাঈল হোসেন, ঝাড় সিংহেশ্বরের হারুন মিয়াসহ অন্যান্য চরের কৃষকরা জানান, চরের জমিতে বর্তমানে ভুট্টা, বাদাম, মরিচ, বোরো ধান, মিষ্টিকুমড়া, শাক-সবজি রয়েছে। টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ফসলের ব্যপক ক্ষতি সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড তিস্তার পানি বৃদ্ধির আগেই চরের কৃষকদের ফসল ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান নীলফামারীর ডালিয়া ডালিয়া পানি উন্নয়ন বিভাগ নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।
এদিকে রবিবার (২৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হতে পারে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।
