নিয়োগ-পদায়ন দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের শাহবাগে অবস্থান

সমাধানের আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৮ এএম

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও নিয়োগ ও পদায়ন না পাওয়া প্রার্থীরা রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। আন্দোলনকারীদের  সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

গতকাল রবিবার বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর শাহবাগে সুপারিশপ্রাপ্ত নিয়োগপ্রত্যাশীরা অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন। তারা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা এ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। পরে প্রতিমন্ত্রী এসে আন্দোলনকারীদের ভোগান্তির বিষয়গুলো শোনেন এবং দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

প্রার্থীদের সাত সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন দেবব্রত, জান্নাতুল ইসলাম টনি, পারভেজ, আফসানা, জান্নাতুল ফেরদৌস শান্তা, ফারজানা ও শিশির।

এর আগে ২৩ এপ্রিল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রার্থীরা শাহবাগে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এর আগের দেওয়া ১০ দিনের আল্টিমেটাম প্রত্যাহার করে সেদিনই তারা সরাসরি আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা জানান, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নির্বাচিত করা হয়। ফল প্রকাশের পর নিয়ম অনুযায়ী তারা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ ও ডোপ টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র জমা দেন। তবে আড়াই মাস পার হলেও এখনো তারা নিয়োগপত্র পাননি। তারা বলেন, নিয়োগের আশায় অনেক প্রার্থী তাদের পূর্বের বেসরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় তারা পরিবারসহ মারাত্মক আর্থিক ও মানসিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। প্রার্থীদের অভিযোগ, গত ২২ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে এক ধরনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে, যা তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

আন্দোলনকারীরা জানান, গত ১ মার্চের আগেই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সব মূল সনদ যাচাই ও পরিচিতি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সব ধাপ শেষ হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়াকে তারা কর্র্তৃপক্ষের টালবাহানা হিসেবে দেখছেন। এ বিষয়ে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলন করেও দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন, তবে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত