আল্লাহর ওপর নির্ভরতার শিক্ষা

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৪ এএম

সব ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ ওপর ভরসা রাখা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। এই ভরসা ও নির্ভরতাই মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তি, চিন্তায় স্থিরতা এবং জীবনে ভারসাম্য সৃষ্টি করে। ইসলামের দৃষ্টিতে তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর ভরসা করা কোনো অলসতা বা নিষ্ক্রিয়তা নয়, বরং এটি ইমানের এক জীবন্ত রূপ, যেখানে বান্দা যথাযথ চেষ্টা, পরিকল্পনা এবং শরিয়তসম্মত উপায় অবলম্বনের পর ফলাফলকে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর ওপর সোপর্দ করে।

পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে তাওয়াক্কুলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, যা মুমিনের জীবনে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও নির্ভরতার ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর ওপরই যেন মুমিনগণ তাওয়াক্কুল করে।’ (সুরা আলে ইমরান ১২২) এই নির্দেশনা প্রমাণ করে, তাওয়াক্কুল ইমানের অপরিহার্য অংশ, যা একজন মুমিনের পরিচয়কে পূর্ণতা দেয়। মহান আল্লাহ আরও বলেন, ‘যখন কোনো বিষয়ে সংকল্প গ্রহণ করবে, তখন আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান ১৫৯) এই আয়াত আমাদের শেখায়, তাওয়াক্কুল সিদ্ধান্তহীনতার নাম নয়, বরং এটি গভীর চিন্তা, পরামর্শ, পরিকল্পনা ও সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পর আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা।

রিজিকের ক্ষেত্রেও তাওয়াক্কুলের শিক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘জমিনে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণীর রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহরই।’ (সুরা হুদ ৬) আয়াতটি মুমিনকে এই বিশ্বাসে দৃঢ় করে যে, রিজিকের প্রকৃত নিয়ন্ত্রক আল্লাহ। সুতরাং চেষ্টা থাকবে অব্যাহত, কিন্তু ভয় ও দুশ্চিন্তা হৃদয়ে থাকবে না।

তাওয়াক্কুলকে অনেকেই ভুলভাবে অলসতা বা নিষ্ক্রিয়তার সমার্থক মনে করেন। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাওয়াক্কুলের পূর্বশর্ত হলো যথাযথ চেষ্টা, পরিকল্পনা ও দায়িত্বশীলতা। চেষ্টা ছাড়া তাওয়াক্কুল গ্রহণযোগ্য নয়।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত