যানজটে নাকাল বগুড়া শহর

আপডেট : ০৩ মে ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম

উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যিক শহর বগুড়া। বগুড়া শহর এখন মহানগরের পরওণত হয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো মানুষের পদচারণ থাকে এ শহরে। বগুড়া শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার কারণে তীব্র যানজটে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পড়েছে যে যানবাহন বাদ দিয়ে হেঁটে চলাও মাঝেমাঝে অসম্ভব হয়ে যায়। যানজটের এমন অস্বস্তি চলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। ফলে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বগুড়া শহরের সাতমাথায়, থানা মোড়, বাদুড়তলা, কাঁঠালতলা, ঝাউতলা, ফতেহ আলী বাজারের সামনে, বড়গোলা, দত্তবাড়ী, নবাববাড়ী সড়ক, রানা প্লাজার সামনে, জেলা জজ আদালতের সামনে, জলেশ্বরীতলা, ইয়াকুবিয়ার মোড়, পিটিআই মোড়, মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের সামনে, কানুছগাড়ী, খান্দার সড়ক, স্টেশন সড়কে যানজট লেগেই থাকে। সড়কের ওপর পার্কিং আর ইউটার্ন যানজট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। 

আর এ দুর্ভোগকেও পুঁজি করছে একটি চক্র। শহরের যত্রতত্র সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড বানিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। কখনো রাজনৈতিক পরিচয়ে আবার কখনো স্থানীয় প্রভাব ঘাটিয়ে নিয়ন্ত্রণ করছে এসব সিএনজি স্ট্যান্ড। ফলে বেপরোয়া হয়ে উঠছেন এসব যানবাহনের চালকরা। আইন অমান্য করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।

অবৈধ এসব যানবাহনের কারণে ট্রাফিক পুলিশের যানজট নিয়ন্ত্রণে যেসব নিয়মকানুন দেওয়া হয়েছে সেগুলো কাজে আসছে না। ট্রাফিক আইন অমান্য করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব যানবাহন ও বগুড়া শহরের বড়গোলা এলাকার বাসিন্দা নুরে আলম। তিনি বলেন, শহরের যানজটের ভোগান্তি নিরসন হওয়া দরকার। মেয়েকে নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে দিয়ে আসি। বড়গোলা থেকে ইয়াকুবিয়া মোড়। এই সামান্য রাস্তায় যানজট ছাড়া যেতে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট লাগতে পারে। অথচ যানজটের কারণে মাঝেমাঝে ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা লেগে যায়। 

শহরের বিসিক এলাকার বাসিন্দা নব কুমার বলেন, জরুরি কোন কাজ না থাকলে শহরে যাই না। কারণ ব্যাপক যানজট হয়। অনেক সময় রিক্সা থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়। কারণ এই শহরে আগের চেয়ে ইজিবাইক ও অটোরিকশার সংখ্যা বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়  যেতে সময় লাগছে দ্বিগুণ।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন সৈকত বলেন, আমাদের বগুড়া শহরকে গুছিয়ে তুলতে হলে সঠিক পরিকল্পনা করতে হবে। পরিকল্পনা ছাড়া শহরের যানজট কমানো সম্ভব নয়। শহরকে আরও বড় করে তুলতে হবে। সাতমাথামুখি শহর আমাদের, যারফলে শহরের যানজট দিন দিন অসহ্য হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি ভাবে ও নগরবাসীকে সাথে নিয়ে সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। নইলে শহরের যানজট কোনভাবে কমানো সম্ভব হবে না।

বগুড়া ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) সালেকুজ্জামান খান জানান, মানুষ যেন শহরে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে সেজন্য বিভিন্ন মোড়ে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। জেলা পুলিশের পক্ষথেকে শহরে যানজট নিরসনে কাজ করা হচ্ছে। যানজটের মূল কারণ হচ্ছে অধিক পরিমাণ অবৈধ ইজিবাইক ও অটোরিকশা বেড়ে যাওয়া। এ ছাড়াও শহরের রাস্তার ধারণক্ষমতার অধিক যানবাহন চলাচলের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। আমাদের ট্রাফিক বিভাগ নিয়ে চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত