রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদ এলাকায় কয়েকদিন ধরে বৃষ্টিপাতে কিছুটা পানি বাড়লেও এর কোনো প্রভাব পড়েনি কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনে। হ্রদে প্রয়োজনীয় পানি না থাকায় কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে চারটিই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। সচল থাকা একমাত্র ইউনিটটি থেকে মাত্র ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এই কেন্দ্রে পাঁচটি ইউনিটে সর্বোচ্চ ২৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।
কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, শুষ্ক মৌসুমে প্রতি বছরই কাপ্তাই লেকের পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যায়। গত কয়েক দিনে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা হ্রদের পানির স্তর বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত সামান্য।
রুলকার্ভ (পানির পরিমাপের তালিকা) অনুযায়ী, বছরের এই সময়ে কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর ৮১ দশমিক ৪৩ এমএসএল (মিনস সি লেভেল) থাকার কথা। কিন্তু সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত হ্রদে পানির স্তর রেকর্ড করা হয়েছে ৭৭ দশমিক ৯৮ এমএসএল। অর্থাৎ, রুলকার্ভ অনুযায়ী বর্তমানে হ্রদে পানির স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ দশমিক ৪৫ এমএসএল কম রয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে শুধু ২ নম্বর ইউনিটটি সচল রয়েছে, যা থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে এবং হ্রদে পানির স্তর না বাড়লে বাকি ইউনিটগুলো চালু করা সম্ভব হবে না। বৃষ্টিপাত হলে এবং পানির স্তর বৃদ্ধি পেলে পর্যায়ক্রমে অন্য ইউনিটগুলো উৎপাদনে ফিরবে বলে আশা করছেন তারা।
