খুলনা সড়কে সরকারি গাছে মড়ক

আপডেট : ০৫ মে ২০২৬, ০৩:৪৬ এএম

খুলনার ডুমুরিয়ায় উপজেলার ৯টি সড়কের পাশে সরকারি কয়েকটি সংস্থার লাগানো গাছ অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশির ভাগ মারা গেছে। গত চার বছরে গাছের রোগ শনাক্ত করা কিংবা আক্রান্ত গাছগুলো বাঁচাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে উপজেলার সাজিয়ারা-থুকড়া-গফফার সড়কের পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) রোপণ করা প্রায় ১ হাজার ৭০০ নারিকেল ও তালগাছ ঝুঁকিতে পড়েছে। সড়কের পাশ ঘেঁষে অপরিকল্পিতভাবে খনন করে মাছের ঘের তৈরি করায় ধসে পড়ছে সড়কের মাটি। ফলে গাছগুলো শিকড়হীন হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে বনবিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে সরকারি অর্থায়নে সড়কগুলোর দুইপাশ  শিরীষ, মেহগনি, রেইনট্রি ও নিমগাছের চারা রোপণ করা হয়। গাছগুলো বড় হওয়ার পর সড়কের দুই পাশে সবুজের সমারহ চোখে পড়ে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ২০২২ সালে গাছগুলোর ডাল-পাতা শুকাতে শুরু করে। এরপর গাছের ছাল শুকিয়ে যায়। ধীরে ধীরে মরতে শুরু করে গাছগুলো। শুধুমাত্র কিছু বাবলাগাছ এখনো জীবিত রয়েছে। উপজেলার রুদঘরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক জিএম আমানুল্লাহ আমান বলেন, ডুমুরিয়ার অধিকাংশ সড়কে কয়েক বছর আগে রাস্তার দুই ধারে সারি সারি গাছ ছিল। সেই গাছগুলো মরে যাওয়ায় বর্তমানে দেখতে খুবই খারাপ লাগে। গ্রামবাসী অনেকেই এসব গাছের গোড়াসহ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজর দেওয়া উচিত।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার কৈয়া-মোস্তর মোড়, শৈলমারী-শরাফপুর, বসুন্দিয়া-চরচটিয়া, কাঁঠালতলা-মাগুরখালী, সুন্দরবুনিয়া-গোলাবদহ, ডুমুরিয়া-বানিয়াখালী, শাহাপুর- ফুলতলা, রংপুর-খর্নিয়া, গুটুদিয়া-শলুয়া সড়কের পাশে মৃতপ্রায় গাছের ছড়াছড়ি। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইনসাদ-ইবন বলেন, এক ধরনের পোকা গাছের কা-ে আক্রমণ করে নরম অংশ খেতে শুরু করে। ফলে গাছগুলো ধীরে ধীরে মরে যায়। এই পোকা দমনে ব্যবস্থা নিলে জীবিত গাছগুলো রক্ষা করা সম্ভব হতো।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বাবলা গাছে সাধারণত পোকামাকড় আক্রমণ করে না। তেমন নোনাপানির প্রভাবেও সহজে মারা যায় না। ফলে সড়কের পাশে কেবল এ গাছগুলো টিকে গেছে। অন্য গাছগুলো মরে যাচ্ছে।   

এ বিষয়ে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মোহম্মাদ দারুল হুদা বলেন, সড়কের পাশে বনায়ন প্রকল্পের গাছে মড়ক লাগার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তিনি বনায়ন প্রকল্পের গাছগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তারা। অন্যদিকে উপজেলার সাজিয়ারা-থুকড়া-গফফার সড়কের পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে প্রায় ১ হাজার ৭০০ নারিকেল ও তালগাছ হুমকির মুখে পড়েছে। প্রায় প্রতিটি নারকেল ও তাল গাছে অনেক আগে থেকেই ফল ধরেছে। আশপাশের গ্রামের কতিপয় মানুষ, তাদের ইচ্ছে মতো ডাব ও তাল নিয়ে য়ায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে এইসব এলাকার গাছগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত