কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ

ক্যাম্পাসে বৃক্ষ নিধনের অভিযোগ, প্রতিবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৫ মে ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ইনডোর একাডেমিক ক্যাম্পাসে আন্তঃবিভাগ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পূর্বপ্রস্তুতির অজুহাতে মাঠ পরিষ্কার করতে গিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। 

ঘটনার প্রতিকার এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষকরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছেন। কলেজের অধ্যক্ষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সোমবার দিন ও রাতে মাঠ প্রস্তুতের নামে কিছু শিক্ষার্থী এসব গাছ কেটে ফেলেন। প্রকাশ্যে ও রাতের আঁধারে কলেজ ক্যাম্পাসের অন্তত ১৬টি গাছ কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে কলেজের বিজ্ঞান ভবনের সামনে গাছ কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ফলজ, বনজ ও ঔষধি মিলিয়ে ১৬টি গাছ নিধনের অভিযোগ তোলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কলেজে বড় খেলার মাঠ থাকা সত্ত্বেও নতুন করে অস্থায়ী মাঠ তৈরির অজুহাতে রাতে ও সকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী গাছগুলো কেটে ফেলেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরব সমর্থন ছাড়া এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে না।

উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী উর্মি আরা খানম বলেন, ‘ইনডোর একাডেমিক ক্যাম্পাসে সবুজ পরিবেশ তৈরির জন্য এসব গাছ লাগানো হয়েছিল। অথচ সেগুলো সংরক্ষণের বদলে কেটে ফেলা হয়েছে, যা মেনে নেওয়া যায় না। পুরো ক্যাম্পাস সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকলেও দোষীদের শনাক্ত করা না গেলে তা হবে দুঃখজনক।’

গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের একাডেমিক জোনকে ছায়াঘেরা করতে কয়েক বছর ধরে গাছগুলো লাগিয়ে পরিচর্যা করা হয়েছে। কোনো যুক্তিতেই এগুলো কাটার অধিকার কারও নেই। এই ন্যাক্কারজনক বৃক্ষ নিধনের তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘শিক্ষক পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কলেজে বড় খেলার মাঠ থাকা সত্ত্বেও ইনডোর একাডেমিক ক্যাম্পাসের গাছ কাটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোল্লা মো. রুহুল আমীন বলেন, ‘গাছ কাটার বিষয়ে শিক্ষক পরিষদ ও শিক্ষার্থীদের দেওয়া লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের কাছেও লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত