ইনজেকশন নিয়ে খেলে আর্সেনালকে ২০ বছর পর ফাইনালে তুললেন সাকা

আপডেট : ০৬ মে ২০২৬, ১২:০৯ পিএম

দুই দশকের দীর্ঘ আক্ষেপ আর অপেক্ষার অবসান। ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পা রাখল আর্সেনাল। মঙ্গলবার রাতে এমিরেটস স্টেডিয়ামে আতলেতিকো মাদ্রিদকে ১-০ গোলে হারিয়ে বুদাপেস্টের টিকিট নিশ্চিত করেছে মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা। আর গানার্সদের এই রূপকথার মহানায়ক হয়ে রইলেন ক্লাবেরই একাডেমি থেকে উঠে আসা 'স্টার বয়' বুকায়ো সাকা।

‘হয় জিতব, নয় মরব’: সাকার অদম্য জেদ

বুকায়ো সাকার এই সাফল্যের নেপথ্যে ছিল অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণা থেকে মাঠে ফেরার এক অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের গল্প। অ্যাকিলিস ইনজুরির কারণে টানা পাঁচটি ম্যাচ মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। এমনকি আতলেতিকোর বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে নামার আগে ঠিকমতো অনুশীলনও করতে পারেননি।

আর্সেনালের কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি জানান, গত সপ্তাহে সাকা তাকে বলেছিলেন— "আমাকে মাঠে থাকতেই হবে। ফুলহামের বিপক্ষে আমাকে খেলতেই হবে। এটা আমার জন্য এখন জীবন-মরণের লড়াই। সাকার সেই জেদ বিফলে যায়নি। কদিন আগেই ফুলহামের বিপক্ষে ইনজুরি নিয়ে খেলে গোল করেছিলেন তিনি, যা গানার্সদের প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে।

ফুটবলারদের গ্ল্যামারের আড়ালে থাকা ত্যাগের কথা মনে করিয়ে দিয়ে অঁরি বলেন, "মানুষ অনেক সময় কেবল গ্ল্যামার দেখে, কিন্তু সাকা আজ প্রায় কোনো অনুশীলন ছাড়াই ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন। তার এই অভাবনীয় ত্যাগকেই আজকের জয়ের পুরো কৃতিত্ব দিতে হবে।"

গোল্ডেন বয়কে জড়িয়ে ধরলেন মিকেল আর্তেতা

ম্যাচের ৪৫ মিনিটে লিয়ান্দ্রো ত্রসার্দের একটি জোরালো শট আতলেতিকো গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাক ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি শটে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান সাকা। এই এক গোলেই দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনাল নিশ্চিত হয় গানার্সদের। ম্যাচ শেষে সাকা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, 'এই জয় আমাদের এবং সমর্থকদের কাছে কতটা আবেগের, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমরা আজ সত্যিই আনন্দিত।

আর্তেতার চোখে ‘স্পেশাল’ সাকা

প্রিয় শিষ্যকে নিয়ে কোচ মিকেল আর্তেতা বলেন, "এই বিশেষ গোলটি করার জন্য বিশেষ কাউকেই লাগত। সাকা আমার কাছে এবং এই ক্লাবের সাথে যুক্ত সবার কাছে অত্যন্ত স্পেশাল একজন মানুষ। গোলটি যদি কেউ করতেই হতো, তবে সেটি সাকারই প্রাপ্য ছিল।"

পুরো আসর জুড়েই আর্সেনালের রক্ষণভাগ ছিল ইস্পাতকঠিন। নকআউট পর্বের তিনটি হোম ম্যাচেই কোনো গোল হজম করেনি তারা। এমনকি গ্রুপ পর্বেও আট ম্যাচের সবকটিতে জিতে মাত্র চারটি গোল খেয়েছিল গানার্সরা। আতলেতিকোর গ্রিজম্যান-আলভারেজদের আক্রমণভাগকে এদিনও কোনো সুযোগ দেয়নি গ্যাব্রিয়েল মাগালেস ও উইলিয়াম সালিবার রক্ষণ দেয়াল।

২০ বছর আগের আক্ষেপ ঘুচানোর সুযোগ

আগামী ৩০ মে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত হবে মেগা ফাইনাল। সেখানে আর্সেনালের প্রতিপক্ষ হবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজি অথবা বায়ার্ন মিউনিখ। ২০০৬ সালে বার্সেলোনার কাছে ফাইনালে হারের সেই ক্ষত মুছে এবার ইউরোপ সেরা হওয়ার স্বপ্ন দেখছে উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি।

আর্সেনাল এর আগে ৭টি ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার ফাইনালে মাত্র ১ বার শিরোপা জিততে পেরেছে

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ 
  • ২০০৬: বার্সেলোনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে রানার্স-আপ হয়। 
উয়েফা ইউরোপা লিগ / উয়েফা কাপ
  • ২০১৯: ইউরোপা লিগের ফাইনালে চেলসির কাছে ৪-১ ব্যবধানে হেরে যায়
  • ২০০০: উয়েফা কাপের ফাইনালে টাইব্রেকারে তুরস্কের ক্লাব গালাতাসারায়ের কাছে হেরে যায়। 
ইউরোপীয় কাপ উইনার্স কাপ 
  • ১৯৯৪ (বিজয়ী): ইতালিয়ান ক্লাব পারমাকে ১-০ গোলে হারিয়ে একমাত্র ইউরোপীয় শিরোপা জেতে।
  • ১৯৯৫: ফাইনালে রিয়াল সারাগোসার কাছে হেরে যায়
  • ১৯৮০: ভ্যালেন্সিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে রানার্স-আপ হয়। 
ইউরোপীয় সুপার কাপ
  • ১৯৯৪: এসি মিলানের কাছে দুই লেগ মিলিয়ে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে।
 
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত