থানকুনি পাতার গুণাগুণ

আপডেট : ১০ মে ২০২৬, ০৭:৪৮ এএম

খ্রিস্টপূর্ব ১৭ শতক থেকেই আফ্রিকা, জাভা, সুমাত্রাতেও ওষুধ হিসেবে থানকুনি পাতা ব্যবহার হয়ে আসছে। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতে এই পাতা বাটা খুবই উপকারী। ক্ষত নিরাময় ও দ্রুত রক্তপাত বন্ধ করে। শরীরে রক্ত প্রবাহ ঠিক রাখে। থানকুনি পাতার রস খেলে রক্ত পরিশুদ্ধ হয়। ফলে শরীরের কোষে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছে যায়। হাত ফুলে যাওয়া, পা ফুলে যাওয়া এসব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

থানকুনি পাতার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটারি উপাদান। যার ফলে খুব তাড়াতাড়ি জ¦ালা, যন্ত্রণা কমে যায়। এ ছাড়াও ক্লান্তি ভাব দূর হয়। সঙ্গে অনেক রকম ইনফেকশন থেকেও দূরে থাকা যায়। পেটের যেকোনো রোগে থানকুনি পাতা খুব ভালো। আমাশয় থেকে আলসার সেরে যায় এই পাতার গুণেই। নিয়মিত থানকুনি পাতা খেলে হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে। ক্রনিক আমাশয়ের ক্ষেত্রে খুবই ভালো থানকুনি পাতা। যারা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য খুব ভালো থানকুনি পাতার রস। থানকুনি স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে মানসিক চাপ আর অস্থিরতা দুই কমে। অ্যাংজাইটির আশঙ্কাও থাকে না।

নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়া শুরু করলে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পেন্টাসাক্লিক ট্রিটারপেনস নামের উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যে কারণে ব্রেনসেল ভালোভাবে কাজ করতে পারে। স্মৃতিশক্তির উন্নতি হয়। শিশুদের থানকুনি পাতার রস খাওয়ানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি আলঝাইমার্সের ওষুধও তৈরি হয় এই পাতার রস থেকেই। ঘুমের সমস্যা কমাতে প্রতিদিন সকালে উঠে থানকুনি পাতা ভেজানো পানি খেতে পারেন। এর ফলে স্নায়ু শিথিল হবে এবং ঘুম আসবে। প্রতিদিন থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে শরীর থেকে টক্সিন বেরিয়ে যাবে। শরীর থাকবে সতেজ ও ঝরঝরে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত