মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাগুলো নিয়ে দেশটির নাগরিকদের মধ্যে বাড়ছে বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাস। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ মনে করেন, ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হওয়া কিছু হামলার ঘটনা পরিকল্পিত বা সাজানো হতে পারে।
অনলাইন তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান নিউজগার্ডের প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, প্রতি চারজন মার্কিন নাগরিকের একজন বিশ্বাস করেন, গত এপ্রিলে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া গুলির ঘটনা বাস্তব ছিল না। তবে এ নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে সন্দেহের মাত্রা তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের বড় অংশ ঘটনাগুলোকে সত্য বলে মনে করেন। তরুণদের মধ্যেও ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাস করার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।
গত সপ্তাহে এক ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি অভিযুক্ত বন্দুকধারী কোল টমাস অ্যালেনের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ গঠন করে। কিন্তু ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, রাজনৈতিক সহানুভূতি অর্জন ও জনসমর্থন বাড়াতে ঘটনাটি সাজানো হতে পারে।
জরিপে দেখা গেছে, ২৪ শতাংশ উত্তরদাতা হামলার ঘটনাকে ভুয়া বলে মনে করেন। বিপরীতে ৪৫ শতাংশ নাগরিক বিশ্বাস করেন, ঘটনাটি বাস্তব। আর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো মত দিতে পারেননি।
গত ২৮ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত এক হাজার মার্কিন নাগরিকের ওপর জরিপটি পরিচালনা করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউগভ।
নিউজগার্ডের সম্পাদক সোফিয়া রবিনসন বলেন, এই ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রে সরকার ও গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতার বিষয়টিকে সামনে এনেছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও নাগরিকদের বড় অংশ এখন প্রতিষ্ঠিত তথ্যসূত্রের ওপর ভরসা হারাচ্ছেন এবং যাচাই ছাড়া অনলাইনের তথ্য বিশ্বাস করছেন।
হোয়াইট হাউস অবশ্য এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাম্প নিজেই হামলার নাটক সাজিয়েছেন—এমন দাবি বাস্তবসম্মত নয়।
এ বিষয়ে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জোয়ান ডনোভান মনে করেন, বর্তমান মার্কিন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অতিরঞ্জিত প্রচারণা ও নাটকীয়তার প্রবণতা বাড়ায় অনেকেই ঘটনাগুলোকে সিনেমার দৃশ্যের মতো কল্পনা করছেন।
২০২৪ সালে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার চেষ্টা হয়। এর মধ্যে পেনসিলভানিয়ার নির্বাচনী সমাবেশ ও ফ্লোরিডার একটি গলফ ক্লাবের ঘটনাও রয়েছে। যদিও কোনো তদন্তেই এসব হামলা সাজানো ছিল—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারপরও জরিপ বলছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ এখনো এসব ঘটনাকে পরিকল্পিত বলে বিশ্বাস করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিভক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থার সংকট- এই তিনটি বিষয় মিলেই ষড়যন্ত্রতত্ত্বকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।
সিঙ্গাপুর থেকে এলো ৪১ হাজার টন ডিজেল