গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি ও ইসলামের বিধান

আপডেট : ১৩ মে ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম

গবাদিপশুর প্রজনন ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে, কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি এখন খামার ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। উন্নত জাতের গরু ও ছাগল উৎপাদন, দুধ ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পশুর বংশগত মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 

তবে মুসলমানদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, আধুনিক পদ্ধতিতে প্রাণীর শরীরে যে বীজ প্রয়োগ করা হয়, তার মূল্য গ্রহণ করা, এ কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেওয়া এবং এমন গবাদিপশুর গোশত খাওয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ কি না? ইসলামের মূলনীতি ও ফিকহি বিশ্লেষণের আলোকে এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণী উল্লেখ করা হলো।

ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রাণীর প্রাকৃতিক প্রজননের বিনিময় নেওয়া নিষিদ্ধ। কারণ এর দ্বারা প্রাণীর গর্ভধারণ করা নিশ্চিত হয় না। তাছাড়া ওই শুক্রাণু অপবিত্র। আর অপবিত্র জিনিস বিক্রয়যোগ্য নয়। তবে আধুনিক পদ্ধতিতে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে প্রজননের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় লক্ষণীয়।

প্রথমত, ইঞ্জেকশন দেওয়ার কাজটি চিকিৎসা সেবার অন্তর্ভুক্ত। এর মাধ্যমে প্রাণীর গর্ভধারণ করা এবং বংশবৃদ্ধি সম্ভব হয়। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে এমন কাজ বিনিময় যোগ্য। 

দ্বিতীয়ত, ইঞ্জেকশনে ব্যবহৃত শুক্রাণুর সাথে বিভিন্ন উপাদান যুক্ত থাকে। যদি উপাদানগুলো না থাকে তাহলে শুক্রাণুর কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাবে। ফলে শুক্রাণু এবং বিভিন্ন উপাদান মিশ্রণের কারণে উক্ত বীজটি ইসলামের দৃষ্টিতে বিক্রয়ের উপযোগী হয়ে যায়।

সুতরাং আধুনিক পদ্ধতিতে গরু-ছাগলকে যে বীজ দেওয়া হয় সেটার মূল্য নির্ধারণ করা এবং মূল্য নেওয়া বৈধ। আর এমন গবাদিপশুর গোশত খাওয়াও বৈধ।

তথ্যসূত্র: হেদায়া ৪/৩৭৫, কিতাবুন নাওয়াজেল ১২/৪৭৪, হিন্দিয়া ৫/২৯৭

গ্রন্থনা: মুফতি ইউশা মুহাম্মদ শাহরিয়ার, ইফতা ও ইসলামি অর্থনীতি বিভাগ, মারকাযু দিরাসাতিল ইকতিসাদিল ইসলামি, ঢাকা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত