গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশুসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়। এর মধ্যে এ পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ওই এলাকার মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, নিহতরা জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে এটি জলাতঙ্ক কি-না তা নিশ্চিত হতে পারেনি গাইবান্ধা স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২২ এপ্রিল উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ী, কঞ্চিবাড়ী এবং পাশের ছাপড়হাটী ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় একটি বেওয়ারিশ পাগলা কুকুর নারী-শিশুসহ অন্তত ১৪ জনকে কামড়ে আহত করে। পরে আহতদের কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসা নেন তারা। এর একদিন পর তারা গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিতে শুরু করে। এরমধ্যে অনেককেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকদিন চিকিৎসা শেষে সুস্থ অনেকেই বাড়িতে ফিরে আসেন। সম্প্রতি তাদের মধ্যে একে একে পাঁচজন মারা গেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে গত ৬ মে দুজন ও গত ৮ মে একজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। এরপর গত মঙ্গলবার একজন ও গত বুধবার আরও একজন বাড়িতে মারা যান। নিহতরা হলেন উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামের সুলতানা বেগম, একই ইউনিয়নে বজরা কঞ্চিবাড়ী গ্রামের নন্দ রানী, কঞ্চিবাড়ী গ্রামের ফুলু মিয়া, আফরোজা বেগম ও পাশের ছাপরহাটী ইউনিয়নের পূর্ব ছাপরহাটী এলাকার রতনেশ্বর কুমার।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যুর কারণ বা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে একজনের মৃত্যুর কারণ ফরমে নিউমোনিয়া লেখা রয়েছে। বাকি চারজনের মৃত্যুর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো হাতে পাননি।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাক জানান, কুকুর আক্রমণে আক্রান্ত ব্যক্তিরা কেউই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য আসেনি। তবে তারা বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করতে ওই এলাকায় স্বাস্থকর্মীরা কাজ করছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোজাম্মেল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা কেন মারা গেল বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। গত তিন বছরে উপজেলায় বেওয়ারিশ কুকুরের টিকা বরাদ্দ আসেনি। তবে পোষা কুকুরের জন্য সীমিত পরিমাণ ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে।’
