যশোর

ব্রাহমা জাতের গরুর দাম হাঁকানো হচ্ছে ১৪ লাখ টাকা

আপডেট : ১৫ মে ২০২৬, ০৬:২২ পিএম

যশোরের সীতারামপুর গ্রামে মহিদুল জামান কাজলের খামারে এবার কুরবানি ঈদের আগে আকর্ষণীয় ও বিভিন্ন জাতের গরুর দেখা মিলেছে। খামারে বিভিন্ন প্রজাতির গরু দেখতে প্রতিদিনই দূর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসছেন উৎসুক জনতা ও ক্রেতারা।

শুক্রবার খামার ঘুরে দেখা গেছে যে দেশি প্রজাতির গরুগুলোর দাম হাঁকানো হচ্ছে এক থেকে দুই লাখ ৬০ হাজার টাকার মধ্যে। তবে খামারে ঢুকলেই চোখ আটকে যায় উজ্জ্বল গায়ের রঙের বিশালদেহী ব্রাহমা জাতের সাদা গরুটির দিকে। এটির দাম হাঁকা হচ্ছে  সাড়ে ১৪ লাখ টাকা। পাশাপাশি ২৫ মণ ওজনের হোলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরুর দাম সাড়ে ১১ লাখ, পাকিস্তানি শাহীওয়াল জাতের গরু সাড়ে আট লাখ ও  আমেরিকান ফ্লাগবি ও ফ্রিজিয়ান জাতের গরু সাড়ে সাত লাখ টাকায় বিক্রির আশা করছেন খামারি।

সরকারি চাকরিজীবী খামারের মালিক মহিদুল জামান কাজল জানান, ২০১৭ সালে মাত্র পাঁচটি গরু নিয়ে খামার শুরু করেছিলেন তিনি। এবার তার দুটি খামার মিলিয়ে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৪২টি গরু। যার মধ্যে ব্রাহমা একটি, হোলস্টেইন ফ্রিজিয়ান পাঁচটি, আমেরিকান ফ্লাগবি তিনটি, শাহীওয়াল তিনটি ও বাকিগুলো দেশি প্রজাতির। গরুগুলোর পরিচর্যায় কোনো আপোস নেই।

তিনি জানান, গরুর খাবার তালিকায় রয়েছে ঘাস, খড়, গমের ভুসি, চালের কুঁড়া, ভুট্টা ও সয়াবিন খৈল সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও কৃত্রিমতামুক্ত। দিনে দুইবার শ্যাম্পু দিয়ে গোসল, সারাক্ষণ ফ্যানের বাতাস এবং মশার উপদ্রব থেকে রক্ষায় কয়েলের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিদিন শুধু দানাদার খাবারেই খরচ হয় প্রায় সাত হাজার টাকা, অর্থাৎ মাসে প্রায় দুই লাখ ১০ হাজার টাকা।

খামারের কর্মী সুজন হোসেন বলেন, এই গরুগুলোকে আমি সন্তানের মতো ভালোবেসে লালন-পালন করি। যত্ন না নিলে ওরা সাড়া দেয় না।

তবে এত পরিশ্রম ও বিনিয়োগের বিপরীতে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে চিন্তিত খামারি কাজল।

তিনি জানান, গোখাদ্যের দাম এবার অনেক বেশি। খরচ বাড়লেও গরুর বাজার সেভাবে সাড়া দিচ্ছে না। ক্রেতারা মনে করেন আমরা আন্দাজে দাম চাইছি, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। দাম ভালো পেলে লাভ হবে, না পেলে হয়তো সমান সমান বা লোকসান হবে। বাকিটা আল্লাহর ওপর।

নড়াইল থেকে আসা ক্রেতা আরিফ হাসান জানান, ব্রাহমা গরুটি তার পছন্দ হয়েছে, তবে দরদামে এখনও মিল হয়নি। খামারি সাড়ে ১৪ লাখ চাইলে তিনি ১০ লাখ প্রস্তাব করেছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, যশোরের আট উপজেলায় এবার কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৭টি পশু। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৩৬ হাজার ২৫৯টি, ছাগল ৮১ হাজার ২৭৬টি এবং ভেড়া ৪৪২টি। জেলায় কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ৯৫ হাজার ৮১২টি। সে হিসাবে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত প্রায় ১৪ হাজার ৮৪৯টি পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এবার কোরবানির পশু বিক্রিকে ঘিরে কয়েকশ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে যশোরের কোরবানির পশুর চামড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তম চামড়ার মোকাম রাজারহাটের চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি জানান, জেলার আট উপজেলায় নিবন্ধিত খামারের সংখ্যা ১৩ হাজার ৬৪০টি এবং গবাদিপশু চাষির সংখ্যা ১৪ হাজার ১৩৫ জন। খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে সচেতন করা হচ্ছে, যাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত