সুন্দরবনের কোলঘেঁষা খুলনার অপরূপ সৌন্দর্যের জনপদ কয়রা উপজেলা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং বিশ্বঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবনের বিশাল বিস্তৃতি থাকা সত্ত্বেও পর্যটন খাতে এখনো পিছিয়ে রয়েছে অঞ্চলটি। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন হলে কয়রা দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কয়রায় রয়েছে প্রাচীন ঐতিহ্যের মসজিদকুঁড় মসজিদ, রাজা প্রতাপাদিত্যের স্মৃতিবিজড়িত নানা স্থাপনা, খানজাহান আলী (রহ.)-এর স্মৃতি, বিভিন্ন মাজার ও প্রাচীন দিঘি। পাশাপাশি সুন্দরবন-ঘেঁষা তেঁতুলতলার চর, কাটকাটা, কাশিয়াবাদসহ কয়েকটি এলাকা প্রকৃতিপ্রেমী ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য হতে পারে বিশেষ আকর্ষণ।
স্থানীয়দের মতে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, আবাসন ও পর্যটন সুবিধার অভাবে এখনো পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারেনি কয়রা। ফলে সম্ভাবনা থাকলেও অর্থনৈতিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপকূলীয় জনগোষ্ঠী।
কয়রা উপজেলা জলবায়ু ফোরামের সভাপতি রাসেল আহাম্মেদ বলেন, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস ও বেকারত্ব কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে বনজীবীদের ঝুঁকিপূর্ণ পেশা থেকে বিকল্প নিরাপদ কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, পরিবেশবান্ধব আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সুবিধার উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।
উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম বলেন, কয়রার সুন্দরবনের সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য। কিন্তু এখনো সুন্দরবনকেন্দ্রিক কোনো পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি।
খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, পর্যটন শিল্প গড়ে উঠলে স্থানীয়ভাবে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট ও ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত ও টেকসই ইকোট্যুরিজম গড়ে তোলা গেলে শুধু কয়রার অর্থনৈতিক চিত্রই বদলাবে না, বরং সুন্দরবন সংরক্ষণ ও স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশেও দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কয়রার অপার সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে এখন প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যকর পরিকল্পনা।
