যুক্তরাষ্ট্রর আগ্রাসনের জবাব দেবে ইরান!

আপডেট : ২৭ মে ২০২৬, ০১:৪৫ এএম

তেহরান অভিযোগ করেছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছে। আগ্রাসী পরিণতির জন্য ওয়াশিংটনকেই দায় নিতে হবে। ইরান কোনো আগ্রাসনের জবাব না দিয়ে ছাড়বে না এবং দেশের জনগণকে রক্ষায় কোনো দ্বিধা করবে না। তবে এ হামলা আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ বলে ছিল দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

সোমবার (২৫ মে) দক্ষিণ ইরানে চালানো হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও মাইন পেতে থাকা নৌযান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। 

মঙ্গলবার (২৬ মে) এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, হরমোজগান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী ও অযৌক্তিক কর্মকাণ্ডের পরিণতির জন্য ওয়াশিংটনকেই দায় নিতে হবে। অঞ্চলটি হরমুজ প্রণালির তীরে অবস্থিত, যেখান দিয়ে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ পরিবাহিত হয়।

তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান কোনো আগ্রাসনের জবাব না দিয়ে ছাড়বে না এবং দেশের জনগণকে রক্ষায় কোনো দ্বিধা করবে না।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল বন্দর আব্বাসের কাছে একটি এলাকা, যেখানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি রয়েছে।

জানা গেছে, বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর স্থানীয় কর্মকর্তাদের তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। পরে ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি যুদ্ধবিমানে গুলি চালিয়েছে।

এদিকে, যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার লক্ষ্যে চলমান আলোচনা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, সমঝোতা এখনও সম্ভব হলেও তা চূড়ান্ত হতে আরও কয়েকদিন লাগতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, সম্ভাব্য সমঝোতায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে আলোচনায় অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি তহবিল মুক্তির দাবি।পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলা এ আলোচনায় সাম্প্রতিক সময়ে কাতারও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মাঝেমধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত