রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদ- দিয়েছে আদালত। এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা।
গতকাল রবিবার বেলা ১১টা ৩৭ মিনিটে ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। সে সময় এজলাস কক্ষে উপস্থিত ছিলেন হান্নান মোল্লা। বিচারক রায় ঘোষণার কিছুক্ষণ পর এজলাস কক্ষ থেকে ‘ভি’ চিহ্ন দেখাতে দেখাতে নিচে নেমে আসেন তিনি।
হান্নান মোল্লা বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, রায়ে আমি একশ পার্সেন্ট (শতভাগ) খুশি। আমরা কাক্সিক্ষত রায় পেয়েছি। এখন চাই দ্রুত রায় কার্যকর হোক। এ কথা
বলেই তিনি বিদায় নিতে চান। একটু সামনে গিয়ে আবার বলেন, ‘এ রায়ে আমাদের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা কাক্সিক্ষত বিচার পেয়েছি। বিচারক, পুলিশ প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মী এবং কঠিন সময়ে যারা আমাদের পাশে ছিলেন, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার মেয়ের হত্যার বিচার আদালত করেছে। এখন আমরা চাই, যত দ্রুত সম্ভব রায় কার্যকর করা হোক।’
এর আগে সকাল ১০টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণে হাজির হন রামিসার বাবা। সঙ্গে কয়েকজন স্বজনও যান। এরপর আইনজীবীদের সঙ্গে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে যান। সেখানকার এজলাস কক্ষে বসে অপেক্ষা করতে থাকেন। তার চোখে-মুখে ছিল উদ্বেগ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীসহ উপস্থিত অন্যরা তাকে আশ^স্ত করেন, ধৈর্য ধারণ করতে বলেন। বিচারকের চেয়ারের দিকে অপলক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকেন হান্নান মোল্লা। বেলা ১১টার দিকে বিচারক এজলাসে বসেন এবং রায় পড়া শুরু করেন। পুরো সময় নির্বাক ছিলেন হান্নান মোল্লা। ১১টা ৩৭ মিনিটে বিচারক দুই আসামির মৃত্যুদ- ঘোষণা করতেই কেঁদে ফেলেন তিনি। স্বস্তি আর ন্যায়বিচার পাওয়ার আনন্দ প্রকাশ পায় তার চোখের কোণে। যেন কিছুটা শান্তি ফিরেছে তার বুকের ভেতরে। এরপর আইনজীবীদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। সেখান থেকে ‘ভি’ চিহ্ন দেখিয়ে নিচে নেমে যান।
