প্রকৃত ঘটনা জানা না গেলেও শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে অস্বাভাবিকভাবে ৫০ ফুট জায়গাজুড়ে মাটি গরম হয়ে ওঠা নিয়ে ভয়ের কিছু নেই বলে মনে করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। কেন মাটি গরম হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার জন্য বাপেক্সের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে জায়গাটি কেন গরম হচ্ছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানাতে পারেনি তারা।
জানা যায়, গত শুক্রবার থেকে হাসপাতালের প্রধান প্রবেশপথের সামনের একটি অংশের মাটি তীব্র গরম বলে অনুভূত হয়। প্রায় ৫০ ফুট এলাকাজুড়ে এই অস্বাভাবিক তাপ ছড়িয়ে পড়ায় রোগী, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দেয় আতঙ্ক। স্থানটি নজরদারিতে রাখে ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগ। গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারী তামিম বলেন, আমি ওই স্থান দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ গরম অনুভব করি। পরে মাটি স্পর্শ করে দেখি প্রচ- গরম। পরে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষকে জানাই।
গত শনিবার দুপুরে স্থানটির একটি জায়গায় গর্ত করলে ধোঁয়ার কু-লী বের হয়। ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিকভাবে পানি দিয়ে স্থানটি ঠা-া করার চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো কাজ না হওয়ায় কৌতূহল ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
বাপেক্সের অনুসন্ধান উপবিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জেবুন নাহার গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সেখানে কোনো গ্যাসের উপস্থিতি আমরা পাইনি। গ্যাসের কোনো গন্ধও পাওয়া যায়নি। সাধারণত অনেক ক্ষেত্রে গভীর ও অগভীর নলকূপ বসানোর সময় পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস উঠে আসে। এসব গ্যাস সাধারণত পকেট গ্যাস হয়ে থাকে, যার পরিমাণ খুবই সামান্য। কিন্তু এখানে আমরা এমন কিছু পাইনি। ধান সেদ্ধ করার পর যেমন গন্ধ হয়, তেমন একটি গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। মাটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
গোসাইরহাটের (ভারপ্রাপ্ত) ইউএনও শেখ নওশাদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাপেক্সের প্রতিনিধিদল গোসাইরহাটে এসেছিল। তারা এখানে কোনো গ্যাসের উপস্থিতি পায়নি। তবে তারা ধারণা করছে, এখানে অনেক আগে ডোবা-নালা ছিল। সেখানকার মাটির নিচে কোনো কিছু পচে গ্যাসজাতীয় পদার্থ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। সে কারণে এমন তাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে সংগ্রহ করা মাটির নমুনা পরীক্ষার পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। তিনি আরও বলেন স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ১৯৬২ সালের আগে এখানে একটি ডোবা ছিল।
গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান মিঞা জানিয়েছেন, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত না হলেও সবার মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গোসাইরহাট উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম আব্দুল মতিন জানিয়েছেন ঘটনাস্থলের খুঁটির বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক নাসিমা বেগম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আসেনি। আমরা চাইলে একটি দল পাঠিয়ে সেখানে কী হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করতে পারি।