ইতিহাস বদলানোর এক লড়াই

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ০২:৩২ এএম

সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে বাংলাদেশ সময় আজ সোমবার রাত ১টায় গ্রুপ ‘জি’-এর ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপীয় পরাশক্তি বেলজিয়াম এবং আফ্রিকার ‘ফারাও’ খ্যাত মিসর। এই ম্যাচটি বিশ্বফুটবলের দুই মহাতারকা কেভিন ডি ব্রুইনা ও মোহাম্মদ সালাহর পুরনো দ্বৈরথের এক নতুন মঞ্চ। প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুলের হয়ে বছরের পর বছর একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠ কাঁপানো এই দুই তারকা এবার নিজ নিজ দেশের হয়ে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নামছেন।

বেলজিয়ামের জন্য এই বিশ্বকাপ এক পরিবর্তনের অধ্যায়। ২০১৮ বিশ্বকাপের ‘গোল্ডেন জেনারেশন’-এর ডি ব্রুইনা, লুকাকু এবং কোর্তোয়ারা এখনো দলের মেরুদণ্ড হিসেবে থাকলেও কোচ রুডি গার্সিয়া জেরেমি ডকু ও আমাদু ওনানার মতো একঝাঁক তরুণ প্রতিভাকে দলে ভিড়িয়েছেন। সেখানে তরুণ আর অভিজ্ঞদের মিশেলে প্রথমবারের মতো বিশ্বজয়ের স্বপ্ন ইউরোপের দলটির।

নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ডি ব্রুইনা এবার অনেক বেশি নির্ভার। আসরের প্রথম ম্যাচ সামনে রেখে তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তরুণ বয়সে আপনি শুধু ফুটবলটা খেলতে চান, বাইরের জগৎ নিয়ে মাথা ঘামান না। কিন্তু এখন আমি বুঝতে পারি চতুর্থবারের মতো দেশের প্রতিনিধিত্ব করার মাহাত্ম্য কতটুকু। ১৬ বছর ধরে জাতীয় দলে টিকে থাকা মানে আমি নিশ্চিতভাবেই ভালো কিছু করেছি!’

অনুশীলনে বিভিন্ন কৌশল গোপন রাখা প্রসঙ্গে এই মিডফিল্ডার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা যোগ করেন, ‘মরা যখন কোনো কৌশল নিয়ে কাজ করি, সেটি গোপন থাকা জরুরি। আমি চাই না আমাদের কোনো তথ্য বা কৌশল মিসর বা ইরান আগেভাগে জেনে যাক।’

এদিকে মিসরের জন্য এই ম্যাচটি ইতিহাস বদলানোর লড়াই। সাতবার আফ্রিকান নেশন্স কাপ জিতলেও বিশ্বকাপে এর আগে তিন আসর মিলিয়ে (১৯৩৪, ১৯৯০, ২০১৮) খেলা সাতটি ম্যাচের একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি তারা। কোচ হোসাম হাসান এবার সেই আক্ষেপ মেটাতে মরিয়া। দলের সেরা তারকা সালাহ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের মধ্যে আমি তীব্র উচ্চাকাক্সক্ষা দেখতে পাচ্ছি, তারা আগের সব রেকর্ড ছাপিয়ে যেতে চায়। বিশ্বকাপে আমাদের পারফরম্যান্সের উন্নতি করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।’

লিভারপুল অধ্যায় শেষ করে ক্লাবহীন সালাহ এখন নিজেকে প্রমাণের জন্য মুখিয়ে আছেন। কোচ গার্সিয়াও তার প্রাক্তন শিষ্য সালাহ সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছেন, ‘আমরা মিসরকে খুব ভালো করে চিনি, তারা আফ্রিকার অন্যতম সেরা দল। রোমায় আমি সালাহর কোচ ছিলাম, তাই তার সামর্থ্য নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কখনো মূল পর্বে একে অপরের মুখোমুখি হয়নি বেলজিয়াম ও মিসর। আজকের ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে বিশ্বমঞ্চে তাদের প্রথম দ্বৈরথ। তবে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে তাদের লড়াইয়ের ইতিহাস বেশ চমকপ্রদ। দুই দল এখন পর্যন্ত ৪টি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। যেখানে পরিসংখ্যানে অবাক করার মতো ব্যবধানে এগিয়ে আছে মিসর। ৩টিতেই জিতেছে ‘ফারাও’রা, আর বেলজিয়ামের জয় মাত্র ১টি। তাদের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০২২ সালের নভেম্বরে কুয়েতে, যেখানে বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে অঘটনের জন্ম দিয়েছিল মিসর। সেই ম্যাচটি এবার বিশ্বমঞ্চেও ফেরাতে চাইবে আফ্রিকান দলটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত