ইসরায়েলে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুমকি!

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ১২:৫৫ এএম

ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গত কয়েক বছরে গাজা উপত্যকায় চালানো চরম সহিংসতার মাধ্যমে ইসরায়েল ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। একইসঙ্গে বিষয়টি ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে পাশাপাশি দেশটিকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করছে এবং বিশ্বজুড়ে ইহুদিবিদ্বেষ উসকে দিচ্ছে।

এ অবস্থায় অধিকৃত পশ্চিম তীরে ‘ইহুদি সন্ত্রাসবাদ’ ও ‘জাতিগত নির্মূলের আদর্শ’কে সমর্থন করার অভিযোগে ইসরায়েল সরকারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন দেশটির সাবেক রাজনৈতিক নেতা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এক চিঠিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। 

ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিয়ে দেওয়া ওই ‘চূড়ান্ত সতর্কবার্তামূলক’ চিঠিতে ইসরায়েলের দুজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশটির সব গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থার সাবেক প্রধানরা, সাবেক বিচারক, একজন নোবেলজয়ী ও খ্যাতিমান উপন্যাসিক স্বাক্ষর করেছেন।স্বাক্ষরকারীরা ‘ইহুদি সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে’ অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

চিঠিতে ইসরায়েলের বেসামরিক ও সামরিক সদস্যদের হাতে সংঘটিত বছরের পর বছর ধরে চলা হামলার একটি তালিকাও তুলে ধরা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে হত্যা, যৌন নিপীড়ন, চুরি, অগ্নিসংযোগ এবং মৃতদেহের অবমাননার মতো অপরাধ রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এসব অপরাধ প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তির মধ্যে ঘটেছে।

চিঠিতে বলা হয়, ‘এ চিঠি শেষবারের মতো দেওয়া একটি সতর্কবার্তা। আমরা দাবি করছি, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় জুডিয়া ও সামারিয়ায় (অধিকৃত পশ্চিম তীরের জন্য ব্যবহৃত ইসরায়েলি নাম) ছড়িয়ে পড়া ইহুদি সন্ত্রাসবাদ অবিলম্বে নির্মূলে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিন।’চিঠিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, তাঁর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তামন্ত্রী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডাররা যদি এ সহিংসতার নিন্দা না করেন এবং তা বন্ধ না করেন, তাহলে স্বাক্ষরকারীরা ইসরায়েলের উচ্চ আদালতে যাবেন।

চিঠিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। গার্ডিয়ান চিঠিটির একটি অনুলিপি দেখেছে। চিঠিতে ইসরায়েলের বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক সদস্যদের হাতে সংঘটিত বছরের পর বছর ধরে চলা হামলার একটি তালিকাও তুলে ধরা হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিয়ে এখন যাঁরা সতর্কবার্তা দিচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে এমন সামরিক কমান্ডারও রয়েছেন, যাঁরা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন। আছেন এমন রাজনীতিকও, যাঁদের আমলে অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত ছিল।

তাঁদের এ গভীর উদ্বেগ ইসরায়েলের বৃহত্তর জনপরিসরের আলোচনায় তেমন প্রতিফলিত হয়নি। অথচ আগামী অক্টোবরের শেষ নাগাদ অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের জন্য অনানুষ্ঠানিক প্রচারণা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। চিঠিতে নেতানিয়াহু ও তাঁর কট্টর ডানপন্থী জোটসঙ্গীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তাঁরা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালাতে উৎসাহ দিচ্ছেন, যাতে জাতিগত নির্মূল ও ভূখণ্ড সংযুক্তিকরণের চরমপন্থী রাজনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা যায়। চিঠিতে বলা হয়েছে, এটি কেবল সেনাবাহিনী বা পুলিশের ব্যর্থতা নয়। এটি সাধারণভাবে ইসরায়েল সরকার ও প্রধানমন্ত্রী এবং বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের প্রকাশ্য নীতির বাস্তবায়ন।

এতে আরও বলা হয়, তাঁরা সেনাবাহিনী, পুলিশ ও শিন বেতকে (অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা) ইহুদি অপরাধীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। কারণ, জুডিয়া ও সামারিয়ায় জাতিগত নির্মূল চালিয়ে ভবিষ্যতে ওই অঞ্চল সংযুক্ত করার যে সরকারি পরিকল্পনা চলছে, এসব ভয়াবহ ঘটনা তা বাস্তবায়নে কাজ করছে।

চিঠিতে ইউরোপে ইহুদিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ঐতিহাসিক হামলার সঙ্গেও তুলনা টানা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘অধিকৃত ভূখণ্ডে ইহুদি সন্ত্রাসবাদের অপরাধগুলো উনিশ ও বিশ শতকে পূর্ব ইউরোপে আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ ও সংগঠিত হামলার কথা মনে করিয়ে দেয়।’

চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহযোগী ভূমিকা পালন করছে। কিছু জায়গায় তারা হস্তক্ষেপ করেনি, আবার কোনো কোনো ঘটনায় সরাসরি সহিংসতায় অংশ নিয়েছে। হামলাকারীদের মধ্যে ইসরায়েলের আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ইউনিটের সদস্য, আংশিক সামরিক পোশাক পরা ব্যক্তি এবং সক্রিয় দায়িত্বে না থাকলেও সেনাবাহিনী বা জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া অস্ত্রধারী ব্যক্তিরাও রয়েছেন।অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনের পশ্চিমে দুরা গ্রামের কাছে ফিলিস্তিনিদের জমিতে ইসরায়েলের সেনারা অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের একটি বুলডোজার পাহারা দিচ্ছেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত