জেরুজালেমে একসময়কার ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন একটি জমি স্থায়ী মার্কিন দূতাবাস নির্মাণের জন্য মাত্র এক ডলারে ওয়াশিংটনকে হস্তান্তরের লক্ষ্যে একটি চুক্তি সই করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। গত বুধবার এই চুক্তি সই হয়।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জেরুজালেমে স্থায়ী মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণ নির্মাণের জন্য এই জমি বরাদ্দ দিতে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার এবং ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, এ সময় জেরুজালেমের মেয়র মোশে লায়ন উপস্থিত ছিলেন। চুক্তির বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হাকাবি বলেন, ‘জমির এই ইজারা বা লিজ চুক্তিটি ৯৯ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে এবং এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে মাত্র এক ডলার পরিশোধ করবে।’
এর আগে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালের মে মাসে সেখানে মার্কিন দূতাবাসের একটি অস্থায়ী কার্যালয় চালু করা হয়। জেরুজালেমের মর্যাদা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ঐকমত্য লঙ্ঘনের দায়ে সে সময় ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল।
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ : ২০২২ সালে ইসরায়েলের মানবাধিকার সংস্থা ‘আদালাহ’ জানিয়েছিল, দূতাবাস কমপ্লেক্সের জন্য বরাদ্দ করা এই জমিটি ইসরায়েলের ১৯৫০ সালের ‘অনুপস্থিত সম্পত্তি আইন’-এর অধীনে ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।
সংস্থাটি জানায়, ঐতিহাসিক আর্কাইভের নথিপত্র প্রমাণ করে যে, ১৯৪৮ সালের আগে এই জমির মালিক ছিল ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো এবং তৎকালীন ব্রিটিশ ম্যান্ডেট কর্তৃপক্ষের কাছে এটি লিজ দেওয়া হয়েছিল।
আদালাহ আরও জানায়, জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাসের এই সম্প্রসারণ এবং এর জন্য বরাদ্দ করা জমি বাজেয়াপ্তকরণ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন, বিশেষ করে হেগ বিধিমালার ৪৬ অনুচ্ছেদের, যা ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে। জাতিসংঘ পূর্ব জেরুজালেমকে ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলের দখল করা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে।
বিশ্ব সংস্থাটির মতে, এই শহরের চরিত্র বা আইনি মর্যাদা পরিবর্তনের লক্ষ্যে নেওয়া যেকোনো পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই।