গোড়ালি ব্যথায় শকওয়েভ থেরাপি

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৩ এএম

আমাদের জীবনে চরম অস্বস্তিকর শারীরিক সমস্যা হলো গোড়ালি ব্যথা। সকালে ঘুম থেকে উঠে মেঝেতে প্রথম পা ফেলার সময় সুই ফোটার মতো তীব্র ব্যথা, কিংবা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর হঠাৎ হাঁটতে গেলে গোড়ালিতে কামড়ে ধরা এমন সমস্যায় কমবেশি অনেকেই ভোগেন। ডাক্তারি ভাষায় একে প্ল্যান্টার ফ্যাসিয়াটিস বা গোড়ালির হাড় বেড়ে যাওয়া বলে।

শকওয়েভ থেরাপি চিকিৎসা : এখন কোনো প্রকার অস্ত্রোপচার বা ওষুধ ছাড়াই এই ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আর এই যুগান্তকারী চিকিৎসার নাম এক্সট্রাকোর্পোরাল শকওয়েভ থেরাপি বা সংক্ষেপে শকওয়েভ থেরাপি। এটি মূলত একটি অত্যাধুনিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা পদ্ধতি। এতে একটি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন শাব্দিক তরঙ্গ ব্যথার সুনির্দিষ্ট স্থানে বা গোড়ালির ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুতে দেওয়া হয়। শকওয়েভ থেরাপি মূলত তিনটি উপায়ে কাজ করে যেমন রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি, কোষের পুনর্গঠন, ক্যালসিয়ামের আস্তরণ দূর করা।

থেরাপি পদ্ধতি : কোনো প্রকার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। ওষুধের ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে বাঁচা যায়। এটি ওপিডিভিত্তিক চিকিৎসা, অর্থাৎ থেরাপি নিয়ে সোজা বাড়ি চলে যাওয়া যায়, হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় না। ব্যথার তীব্রতা এবং রোগের ক্রনিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে সাধারণত ৩ থেকে ৫টি সেশনের প্রয়োজন হতে পারে। প্রতি সেশনে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে এবং সাধারণত সপ্তাহে একবার করে এই থেরাপি দেওয়া হয়।

গোড়ালি ব্যথাকে অবহেলা করলে পরবর্তী সময় তা কোমর বা হাঁটু ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই বছরের পর বছর ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে লিভার বা কিডনি ঝুঁকিতে না ফেলে, সঠিক সময়ে আধুনিক ‘শকওয়েভ থেরাপি’ গ্রহণ করুন সঙ্গে একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম করুন তাতেই গোড়ালি ব্যথা থেকে খুব দ্রুত সময়ে মুক্তি মিলবে এবং সচল, ব্যথামুক্ত জীবন উপভোগ করা সম্ভব।

জেনে রাখুন : শকওয়েভ থেরাপি অত্যন্ত নিরাপদ হলেও গর্ভবতী নারী, শরীরে পেসমেকার লাগানো রোগী, তীব্র রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা বা ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা যাবে না। তাই এই থেরাপি নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত