বর্তমানে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার বাড়ছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে আদান-প্রদানযোগ্য ভার্চুয়াল মুদ্রা, যা কোনো ব্যাংক বা সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এটি ব্লকচেইন নামক প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং ক্রিপ্টোগ্রাফি দিয়ে সুরক্ষিত থাকে। এর জনপ্রিয় কয়েকটি উদাহরণের মধ্যে বিটকয়েন ও ইথেরিয়াম অন্যতম। ইসলামে এর বিধান কী, এটা জায়েজ আছে কী নেই, তা জানা জরুরি।
ডেইলি জং-এর বরাত দিয়ে জানা যায়, বিশ^নন্দিত ইসলামি স্কলার মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি ক্রিপ্টোকারেন্সির শরয়ি অবস্থান নিয়ে নতুন একটি ফতোয়া প্রকাশ করেছেন। এতে তিনি বর্তমান গবেষণা, বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন এবং বিদ্যমান তথ্য-উপাত্তের আলোকে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেনকে শরিয়তসম্মত নয় বলে মত দিয়েছেন।
প্রকাশিত ফতোয়ায় মুফতি তাকি উসমানি বলেন, এ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞদের গবেষণা ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী ক্রিপ্টোকারেন্সিকে শরিয়তের পরিভাষায় প্রকৃত অর্থে ‘মাল’ (সম্পদ) হিসেবে গণ্য করার যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া যায় না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি মূলত হিসাবের খাতায় নিবন্ধিত কিছু ডিজিটাল বা কাল্পনিক সংখ্যার সমষ্টি, যা স্বয়ংসম্পূর্ণ সম্পদের মর্যাদা অর্জন করে না।
ফতোয়ায় আরও উল্লেখ করা হয়, লেনদেনটি ইউএসডিটি-এর মাধ্যমে হোক কিংবা অন্যকোনো ক্রিপ্টো টোকেন ব্যবহার করে সম্পন্ন করা হোক, বর্তমান বাস্তবতা ও গবেষণার আলোকে এ ধরনের কেনাবেচা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়।
ক্রিপ্টোকারেন্সির শরয়ি বৈধতা নিয়ে মুসলিম বিশ্বে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে। বিভিন্ন দেশের আলেম, মুফতি এবং ইসলামি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন ফতোয়া ও ব্যাখ্যা দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ মুফতি তাকি উসমানির এই ফতোয়া বিষয়টিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।