দায়িত্ব নেওয়ার পথে বার্নহ্যাম

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৩০ এএম

যুক্তরাজ্য একসময় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হলেও, গত এক দশকে অর্থনৈতিক সংকট, অভিবাসন, ডানপন্থার উত্থানসহ নানা বিষয়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এক গভীর সংকটে পড়েছে। ২০১৬ সালে ব্রেক্সিট গণভোটের পর থেকে মাত্র এক দশকে ছয় জন প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা ছাড়তে বা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে এত অল্প সময়ে এত বেশি নেতৃত্ব পরিবর্তনের নজির আগে কখনোই দেখা যায়নি। দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ ভূমিধস জয় নিয়ে ক্ষমতায় এলেও দুই বছরের মাথায় পদত্যাগ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। গত শুক্রবার লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হওয়ায় স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। আগামীকাল সোমবার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যে ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে যাত্রা শুরু হবে তার। ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আমার একটি পরিকল্পনা আছে’ (আই হ্যাভ আ প্ল্যান)Ñ এই কথা দিয়েই যুক্তরাজ্যে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করলেন ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

দলীয় প্রধান নির্বাচিত হওয়ার পরই প্রথম ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, তিনি রাজনীতিতে মানুষের হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং আশা ফেরাতে চান। দলের দায়িত্ব নিয়ে বার্নহ্যাম তার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং লক্ষ্যগুলো তুলে ধরেন। দেশকে একতাবদ্ধ করা এবং কট্টর-ডানপন্থি দল রিফর্ম ইউকে’র চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। নিজের অতীত ভুলভ্রান্তি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি হয়তো সব সময় সব কিছু ঠিক করতে পারিনি। যেখানে আমার ঘাটতি ছিল, সে জন্য আমি দুঃখিত। তবে আমি সবসময় আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি।’ ভাষণের শেষে দলীয় কর্মীদের আশার কথা শুনিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আমি কী বিশ্বাস করি এবং কী করতে চাই। আমার একটি পরিকল্পনা আছে। আমি আপনাদের সবার ওপর বিশ্বাস রাখি এবং আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমরা এটি করতে পারব।’ তিনি আরও জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন এবং নিজেকে আরও দক্ষ করে গড়ে তুলেছেন।

দলের অভ্যন্তরীল কোন্দলের বিষয়ে বার্নহ্যাম বলেন, দলাদলি লেবার পার্টিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিভক্ত দল নতুন ডানপন্থিদের হারাতে পারবে না উল্লেখ করে তিনি ঐক্যবদ্ধ দল গঠনের ওপর জোর দেন। বার্নহ্যামের মতে, জনগণ রাজনীতিতে পরিবর্তন চায়। নতুন রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সততার সঙ্গে কথা বলাতেই মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে সাফল্য পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। লেবার পার্টি শ্রমজীবী মানুষের দল হিসেবে নিজেদের আবারও প্রতিষ্ঠিত করবে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি ওয়েস্টমিনস্টার থেকে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বার্নহ্যাম বলেনÑ তিনি স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে চান, যাতে যুক্তরাজ্যের প্রতিটি অঞ্চল সমানভাবে উন্নয়নের সুফল পায়।

মন্ত্রিসভা ‘প্রায়’ চূড়ান্ত : প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার আগেই বার্নহ্যাম তার মন্ত্রিসভায় কে কে থাকবেন তা চূড়ান্ত করে নিচ্ছেন। মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন, এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো চূড়ান্ত করছি। খুব শিগগির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাব এবং সোমবার সেগুলো ঘোষণা করব।’

এখনো মন্ত্রিসভা ঘোষণা না করার প্রশ্নের জবাবে লেবার পার্টির নতুন এই নেতা বলেন ‘আপনি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই যদি মন্ত্রিসভায় রদবদল শুরু করে দেন, তাহলে তা কিছুটা অগ্রিম হয়ে যাবে এবং আমার মনে হয়, এতে পুরোপুরি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।’ বার্নহ্যাম এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও, তার মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাবেন তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, র‌্যাচেল রিভসের স্থলাভিষিক্ত হয়ে অর্থমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ড ও শাবানা মাহমুদ এগিয়ে রয়েছেন।

এক মাস আগে উপনির্বাচনে বিপুল ভোট পেয়ে আবারও পার্লামেন্টে ফেরেন বার্নহ্যাম। এ সপ্তাহের শুরুতে লেবার পার্টির ৩৭৯ পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) ও দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১১টি ট্রেড ইউনিয়নের সমর্থন পেয়ে দলীয় নেতৃত্বের একমাত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত