বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে গতকাল শনিবার দুপুরে সেন্ট মার্টিন থেকে টেকনাফে ফিরেছে যাত্রীবোঝাই একটি কাঠের সার্ভিস ট্রলার। যাত্রীদের বর্ণনায় জানা গেছে, মাঝসমুদ্রে ট্রলারটি আকস্মিক প্রচন্ড ঝড়ের কবলে পড়ে। ওই সময় সাগরের বিশাল ঢেউ আর তীব্র বাতাসের ধাক্কায় ট্রলারে থাকা নারী ও শিশুসহ শতাধিক যাত্রী চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাগরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি রয়েছে। ফলে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে পর্যটকবাহী বড় জাহাজ চলাচল। এতে দ্বীপের বাসিন্দা ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষ বাধ্য হয়ে কাঠের তৈরি সাধারণ ট্রলারে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম না থাকায় প্রায়শই মাঝসমুদ্রে ট্রলারগুলো দুর্ঘটনার মুখে পড়ছে। স্থানীয়রা জানান, জীবনের ঝুঁকি থাকলেও দীর্ঘদিন পরিবারের বাইরে আটকে থাকা, কর্মসংস্থানের অভাব ও আর্থিক দুর্ভোগের কারণেই যাত্রীরা ট্রলারে যাতায়াতের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।
ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের বিষয়ে সেন্ট মার্টিন বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, সাগরে সতর্কসংকেত থাকলে আমরা ট্রলার চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিই। তবে চিকিৎসা বা সরকারি অফিসের কাজে অনেক সময় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দ্বীপের বাসিন্দারা ঝুঁকি নিয়ে টেকনাফ যাতায়াত করেন।
এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী জানান, সাগরে সতর্ক সংকেত বা বৈরী আবহাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তিনি বলেন, দুর্যোগপূর্ণ সময়ে দ্বীপের বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য সরকারিভাবে একটি নিরাপদ সি-ট্রাক বা বড় নৌযানের স্থায়ী ব্যবস্থা করার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি।