রাজধানীর কাফরুলে দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ইউসুফ আলী (৪৫) নামে যুবদলের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন আরও দুই পথচারী।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাত ১১টার দিকে কাফরুল থানাধীন মিরপুর-১৩-এর ই-ব্লকে ওপেক্স গার্মেন্টসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ইউসুফ আলীসহ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া মামুন মিয়া জানান, তিনি ইউসুফের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতেও তারা ই-ব্লকের ১ ও ২ নম্বর লিংক রোডে ওপেক্স গার্মেন্টসের সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় ৩ থেকে ৪ জন ব্যক্তি তাদের পাশ দিয়ে কয়েকবার ঘোরাফেরা করেন। একপর্যায়ে ইউসুফ তাদের ডাক দিয়ে পরিচয় জানতে চান। কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তিরা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যান।
তিনি জানান, গুলির পর তিনি ও আশপাশের লোকজন হামলাকারীদের ধাওয়া দেন। পরে ঘটনাস্থলে ফিরে এসে দেখেন, ইউসুফ গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে আছেন। পাশেই দুই পথচারীও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কাতরাচ্ছিলেন। পরে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসক ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন।
জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ইউসুফের বুকের ডান পাশে গুলি লেগেছিল।
মামুন মিয়া আরও জানান, ইউসুফ আগে কাফরুল থানা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি যুবদলের কর্মী ছিলেন। তার বাসা কাফরুলের পশ্চিম বাইশটেকি এলাকায়। গ্রামের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শাকরাল গ্রামে।
আহতদের মধ্যে নালাম সরদার (৪৫) ফুটপাতে কাঁচামালের ব্যবসা করেন। তার বাড়ি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায়। তিনি মাথার ডান পাশে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
অপর আহত মনির হোসেনের (৩২) বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায়। তিনি ফুটপাতে কাপড়ের ব্যবসা করেন। তার বাম পায়ে গুলি লেগেছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ইউসুফ আলীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহত দুইজন ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।