গ্যাস-বিদ্যুৎ ঘাটতিতে জামায়াতের উদ্বেগ

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৭ এএম

দেশে ব্যাপকহারে গ্যাস ও বিদ্যুৎ ঘাটতিতে নাগরিকদের চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল বৃহস্পতিবার দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান।

সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সম্প্রতি দেশে চরম বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতিতে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। গত রবিবার থেকে এই ব্যাপক লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে দেশ। তথ্যমতে, ৯ আগস্ট ৩৬৭১ মেগাওয়াট, ১০ আগস্ট ৩৭৫৭ মেগাওয়াট, ১১ আগস্ট ৩৪৬৫ মেগাওয়াট এবং ১২ আগস্ট লোডশেডিং ছিল ৩৩৮২ মেগাওয়াট। এতে দেখা যায়, গত কয়েক দিনে গড়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। যার ভুক্তভোগী হয়েছে দেশের মানুষ ও শিল্প খাত।

তিনি আরও বলেন, গত বুধবার ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ২০৩ কোটি ঘনফুট। সরকারের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, অদূরদর্শিতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক দুর্নীতি ও দলীয়করণের কারণে দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট চরমে উঠেছে। সরকারের এমন অব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হওয়ায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং সরকারের ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে জ্বালানি সংকট বেড়ে যাওয়ায় ক্রমান্বয়ে জনরোষ বাড়ছে। ইতিমধ্যে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ সদর দপ্তরে বুধবার চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। এটি সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার চিত্রকে তুলে ধরে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা নীলফামারীতে ৮০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাচ্ছে ৪৫-৫৫ মেগাওয়াট, কুষ্টিয়ায় ১৫৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৮৫-৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে এমন চিত্র দেশের সর্বত্র। এমতাবস্থায় নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে বিদ্যুৎসংশ্লিষ্টরা।

তিনি আরও বলেন, সরকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় এমন অবস্থার তৈরি হয়েছে। দেশের শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, নাগরিকরা বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে নিয়মিত রান্নাবান্নাসহ নিত্যকর্ম পরিচালনা করতে পারছে না, শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নে ব্যাঘাত ঘটছে। সর্বোপরি নাগরিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। এমতাবস্থায় সরকার সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়া জনগণের প্রতি সরকারের দায়িত্বহীনতার পরিচয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি খাত বেসরকারিকরণের নামে পুরনো অলিগার্কদের নতুন করে সুবিধা দিয়েছে সরকার। এ সংকটকে আরও গভীর করবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায় দুর্ভোগ লাঘবে সরকারকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো, শিল্পের গ্যাস চুরি বন্ধ, লিকেজ ও সিস্টেম লস কমিয়ে আনা, এনার্জি কনভার্সনের যাবতীয় পলিসি ও যন্ত্রপাতি আমদানি সহজ করা, তেল পাচার রোধের ব্যবস্থাসহ সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে অপরিশোধিত তেল আমদানির ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত