নানা অভিযোগে গত বছর এসএ গেমসের ক্যাম্প থেকে বাদ পড়েছিলেন স্বর্ণজয়ী তায়কোয়ান্দোকা দীপু চাকমা। দীর্ঘ প্রায় ১০ মাস পর আবারও জাতীয় দলের আঙিনায় ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন দেশের এই সোনার ছেলে। বাংলাদেশ তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটির প্রথম সভা শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা।
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের নবনিযুক্ত সভাপতি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। সভায় সহসভাপতি আদম সাক্কু চৌধুরী, ড. রশিদ আহমেদ রওহাইনি, জোসেফ বি হাকিমসন, আহাদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানাসহ অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দীপু চাকমার প্রত্যাবর্তন দেশের তায়কোয়ান্দোর জন্য বিশেষ তাৎপর্যের। ২০১৯ নেপাল এসএ গেমসে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম স্বর্ণপদক এনে দিয়েছিলেন তিনি। তায়কোয়ান্দোর পুমসে ইভেন্টে তার সেই সাফল্য লাল-সবুজের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার করেছিল। স্বর্ণপদক জয়ের পর জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে দীপুর উদযাপনের দৃশ্যও হয়ে উঠেছিল স্মরণীয়। তবে এরপরই নানা অভিযোগের কারণে আগের অ্যাডহক কমিটির সিদ্ধান্তে এসএ গেমসের ক্যাম্প থেকে বাদ পড়েন তিনি। দীপুকে জাতীয় দলের বাইরে রাখার ঘটনায় তখন ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল। এবার নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পরই তার ফেরার পথ খুলে গেল।
শুধু দীপু নন, আগের কমিটির সময়ে জাতীয় দলের বাইরে থাকা অন্য খেলোয়াড়দেরও ফিরিয়ে নিয়ে একটি শক্তিশালী জাতীয় দল গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর জাতীয় দল গঠন করতে চাই, যার মাধ্যমে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে পারব।’
তায়কোয়ান্দোকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে যথাযথ প্রশিক্ষণের আওতায় আনার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি। তার লক্ষ্য নিয়মিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো। ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সাফল্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সভাপতি আরও বলেন, ‘আমাদের ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করতে হবে। আমরা যত বেশি আন্তর্জাতিক সাফল্য অর্জন করতে পারব, ততই আরও উন্নত অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজনীয়তা এবং যৌক্তিকতা স্পষ্ট হবে।’ নতুন কমিটির পরিকল্পনায় তাই দীপুর মতো পরীক্ষিত খেলোয়াড়দের ফেরানোর পাশাপাশি নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার উদ্যোগও রয়েছে।