পারফরম্যান্সেই জবাব দিলেন মিরাজ

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৬ এএম

ডারউইনে ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক অনেকে। বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানান, গোটা দলই ম্যাচসেরার পুরস্কারের দাবিদার। তাদের মধ্যে অন্যতম মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথম ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ ৬৫ রান করার পর বল হাতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নেন। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়কে স্মরণীয় করে রাখেন তিনি। ম্যাচ শেষে ‘‘নিজের জন্য খেলা’র অভিযোগেরও জবাব দেন মিরাজ।

কিছুদিন আগেই ওয়ানডের অধিনায়কত্ব হারান মিরাজ। সেই সময় তাকে ঘিরে অনেক আলোচনার জন্ম হয়। অনেকে এমন দাবিও করেন যে, এই অলরাউন্ডার নিজের পারফরম্যান্সের জন্য খেলেন, দলের জন্য নয়। ডারউইনে নিজের ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই আলো ছড়িয়ে জানান, ব্যক্তিগত সাফল্যের উদ্দেশ্যে নয়, সব সময় দেশের জন্য নিবেদিত তিনি। এ নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘আমি সবসময় দলের জন্য খেলি। অনেক সময় অনেক কথা শুনেছি। বিভিন্ন সময় আমাকে নিয়ে, আমার ব্যাপারে অনেক কথা হয়েছে। এগুলোর আসলে কোনো ভিত্তি নেই। আমি সবসময় চেষ্টা করি দলে অবদান রাখতে। অধিনায়ক থাকতেও আমি সেই চেষ্টা করেছি। এখনো এটাই চেষ্টা করব। দিন শেষে তো বাংলাদেশের জন্যই খেলি।’

ডারউইন টেস্ট জয়ের জন্য গতকাল বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রানের। এর পেছনে মিরাজের বোলিংয়ের অবদান ছিল সরাসরি। বিশেষ করে চতুর্থ দিনের সকালের স্পেলে তার তিন উইকেট অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ে ফিরতে দেয়নি। ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করে অজিরা। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ২২৮ রানের লিডের কারণে স্বাগতিকরা তখনো ৬৭ রানে পিছিয়ে। ক্রিজে ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি। ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগে এই জুটি ভাঙেন মিরাজ। দলীয় ১৭৮ রানের সময় ক্যারিকে থামান তিনি। এরপর ১৯৩ রানের সময় বোল্ড করেন বিউ ওয়েবস্টারকে। অস্ট্রেলিয়ার যখন ২০৭ রান, তখন মিরাজের অফস্পিনের ফাঁদে পড়েন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স।

এই তিনটি উইকেট ছিল ম্যাচের মোড় ঘোরানোর মতো। এরপর গ্রিন ও মিচেল স্টার্ক ৪৩ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও স্টার্ককে তাসকিন আহমেদ ফিরিয়ে দেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার লড়াই কার্যত শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত গ্রিন ১০৪ করে হাসান মাহমুদের বলে আউট হন এবং ন্যাথান লায়নকে ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন মিরাজ। ৬৬ রানে ৫ উইকেটের পাশাপাশি প্রথম ইনিংসে নিচের দিকের ব্যাটারদের সঙ্গে একাধিক কার্যকরী জুটি গড়ে নিজে ৬৫ রান রানের ইনিংস খেলেন। ব্যাট-বলের এই অবদানই বলে দেয়, ডারউইনের জয়ে মিরাজ কতটা কার্যকর ছিলেন।

ইনিংস বিরতিতে এই অলরাউন্ডারের একটি সাক্ষাৎকার নেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ও বর্তমান ধারাভাষ্যকার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। এ নিয়েও উচ্ছ্বাস কম নয় মিরাজের, “অনেক কিংবদন্তি খেলোয়াড় ছিলেন এখানে। সবাই বেশ ভালো কথা বলেছেন। এর মধ্যে অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ছিলেন, আমার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। অনেক ভালো লেগেছে। তিনি অনেক খুশি। বারবার আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘বাংলাদেশ, তোমরা সবাই অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছ, আমাদের সবাইকে অবাক করে দিয়েছ। আমরা কখনো ভাবিনি তোমরা এভাবে ক্রিকেট খেলতে পারো।’ এমন একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটার যদি এত ভালো কথা বলে, নিজের কাছে ভালো লাগে।”

এসবের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এমন ঐতিহাসিক এক জয় পাওয়ায় তৃপ্ত মিরাজ, ‘এরকম ম্যাচ জিতলে তো অনেক ভালো লাগে। এই কন্ডিশনে অনেকেই ভাবেনি আমরা ম্যাচ জিতব। আমরা বিশ্বাস করেছি, তবে দিনশেষে ফল আমাদের হাতে নেই, আমরা চেষ্টা করতে পারি। অনেক সময় অনেক কথা হয়, তবে ভালো খেললে ভালো লাগে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত