ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তি চিত্রনায়িকা শবনম। ঝর্ণা বসাক থেকে শবনম হয়ে ওঠা এই অভিনেত্রী শুধু বাংলাদেশ নয়, পাকিস্তানেরও শীর্ষ নায়িকা ছিলেন। অভিনয়ের জন্য ১৩ বার পেয়েছেন সে দেশের সর্বোচ্চ সম্মান ‘নিগার অ্যাওয়ার্ড’। যে রেকর্ড এখনো কোনো পাকিস্তানি অভিনেত্রীই টপকাতে পারেননি। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন বরেণ্য এই তারকা। ষাট ও সত্তর দশকের এই নন্দিত অভিনেত্রী আজ পা রাখলেন জীবনের ৮১তম বছরে। বিশেষ দিন নিয়ে এই অভিনেত্রী বারবারই বলেন, ‘জন্মদিন কখনোই ঘটা করে, খুব বড় আয়োজন করে উদযাপন করা হয় না। পরিবার, আত্মীয়স্বজন, কাছের কয়েকজন বন্ধু আর ভক্তদের শুভেচ্ছা নিয়েই কেটে যায় দিনটা। তবে গত বছরের জন্মদিনে চ্যানেল আই আমাকে নিয়ে বিশেষ আয়োজন করেছিল, এটা আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানটি অনেক সাড়া জাগিয়েছিল।’
অভিনেত্রীর ভাষ্য, ‘সত্যি কথা বলতে জন্মদিনের প্রসঙ্গ এলেই ছোটবেলার কথা মনে পড়ে। এখন ভাবলে মনে হয় কত সময় চলে গেছে জীবন থেকে। জীবনের কত রূপ দেখেছি, নানান বয়সে জীবনের সৌন্দর্যকে উপভোগ করেছি। কত কত মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। কত কিছু শিখেছি এই এক জীবনে। আবার হারিয়েছিও অনেক প্রিয়জনকে। এখন জন্মদিন এলে মনে হতে থাকে, আর হয়তো কিছু দিন। তারপরও বয়স বাড়ে, কিন্তু ভালোবাসা কমে না এই ভালোবাসাইতো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। এই বয়সে এখনো সুস্থ আছি, ভালো আছি এটিই কম কীসের’।
আম্মাজান সিনেমার পর আর অভিনয়ে দেখা না যাওয়ার কারণ কী? শবনমের জবাব, ‘এ বিষয়ে আমার নিজের কিছু করার নেই। ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই। তাছাড়া মনের মতো চিত্রনাট্যও পাচ্ছি না। সর্বশেষ একজন স্ক্রিপ্ট নিয়ে এসেছিল। অগ্রিম সম্মানীও দিয়েছিল। কিন্তু পুরো স্ক্রিপ্ট পড়ে পছন্দ হয়নি। আমি বিনয়ের সঙ্গে না করে দিয়েছি এবং টাকাটাও ফেরত দিয়েছি।’
১৯৬১ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন শবনম। তারও আগে এহতেশাম পরিচালিত এ দেশ তোমার আমার সিনেমায় নৃত্যশিল্পী হিসেবে বড় পর্দায় দেখা যায় তাকে। ১৯৬২ সালে উর্দু ভাষার চান্দা সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে সারা পাকিস্তানে তারকাখ্যাতি অর্জন করেন তিনি। ষাটের দশক থেকে শুরু করে আশির দশক পর্যন্ত দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি একনাগাড়ে প্রধান নায়িকা হিসেবে দর্শকপ্রিয়তা ধরে রেখেছিলেন। তার অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র কাজী হায়াৎ পরিচালিত আম্মাজান, যেটি মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালে।
একসময়ের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র তারকা হয়েও তিনি ছিলেন সবার প্রিয় ‘ঘরের মেয়ে’র মতো। শবনমের পরিণত বয়সের দর্শক আজও তাকে পর্দায় দেখতে মুখিয়ে আছেন। তার অসামান্য অভিনয় প্রতিভা, নাচের পারদর্শিতা, রূপের জাদু আর গ্ল্যামার আজও মোহিত রেখেছে সেই দর্শকদের। সবদিক দিয়ে শবনমের তুলনা শুধুই তিনি নিজে।