থানায় মামলা নিতে অস্বীকৃতির অভিযোগে ফেনীর দাগনভূঞা থানার ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমানকে প্রত্যাহার ও তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতের আদেশের পরও স্বপদেই বহাল রয়েছেন ওসি নোমান। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও খুব একটা অগ্রগতি দেখা যায়নি। আদালতের আদেশ না মানা প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, আদালতের আদেশ আমাদের ডিপার্টমেন্টের আলোকেই সম্পন্ন হবে। সব বিষয়ে সাংবাদিকদের বলা যাবে না।
তবে আদালতে নির্দেশ অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার ওসি নোমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটির প্রধান ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মু. সাইফুল ইসলাম রবিবার থেকে তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তদন্ত চলছে। কিছু বিষয় একান্তই ডিপার্টমেন্টাল বিষয়, এগুলো মিডিয়ায় আসার মতো বিষয় নয়। তদন্তে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালত যে বিষয়গুলো বলেছে, সেগুলোই তদন্ত হবে। আদালতের নির্দেশে ওসির পরও স্বপদে বহাল প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, আমরা যেটিই করি তা দাপ্তরিক বিধি অনুযায়ীই করা হয়। আদালতের আদেশ আমাদের ডিপার্টমেন্টের আলোকেই সম্পন্ন হবে। সব বিষয়ে সাংবাদিকদের বলা যাবে না।
এ প্রসঙ্গে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সাহাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, গত ৯ আগস্ট আদালত দাগনভূঞা থানার ওসিকে প্রত্যাহার ও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর ১২ আগস্ট ওই কর্মকর্তা আবার আদালতে হাজির হয়ে বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। বিচারক তাকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে আপনার কোনো কাজ নেই।’ আদালতের নির্দেশে পুলিশ সুপার তদন্ত সাপেক্ষে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন, সেটি আদালতকে অবহিত করবেন তিনি।
এদিকে আদালতের নির্দেশের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দীন খাঁন বলেন, আদালতের নির্দেশে যদি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ থাকে, তাহলে তদন্ত কমিটি গঠন করা সঠিক। দাগনভূঞা থানার ওসিকে প্রত্যাহারের আদেশের বিষয়ে তিনি বলেন, আদালতের ‘ব্যবস্থা’ শব্দের অর্থ আইনি ব্যবস্থা। আইনি ব্যবস্থার পূর্বশর্ত অনুসন্ধান ও তদন্ত। অনুসন্ধান ও তদন্ত ছাড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া আইনে নিষিদ্ধ।
এর আগে, গত ৯ আগস্ট দেওয়া আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, দাগনভূঞার মমারিজপুর এলাকার বিবি মারজাহান স্বামী রাকিব হাসান হৃদয়সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে মারধরের অভিযোগ এবং গৃহবধূ তানিয়া আক্তারকে যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগে মামলা গ্রহণ করেননি দাগনভূঞা থানার ওসি।
এ নিয়ে শুনানি শেষে আদালতের আদেশে বলেন, পৃথক দুটি ঘটনার অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণে অস্বীকৃতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অভিযোগ, আইনজীবীদের বক্তব্য ও সংযুক্ত কাগজপত্র পর্যালোচনায় গুরুতর বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এতে ওই কর্মকর্তার থানায় দায়িত্ব পালনের অযোগ্যতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এ অবস্থায় দাগনভূঞা থানার ওসিকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পৃথক দুটি ঘটনায় মামলা নিতে অস্বীকৃতির বিষয়টি তদন্ত এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেয় আদালত।