১৩ বছর আগে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে ঘিরে হত্যাকা-ের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, দুই সাংবাদিকসহ আট আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। গতকাল রবিবার প্রসিকিউশন এ আসামিদের হাজির করে তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে।
গ্রেপ্তার দেখানো আট আসামি হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শামসুল হক টুকু, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, একই টেলিভিশন চ্যানেলের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা এবং পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল জলিল ম-ল। এ আসামিদের সবাই অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ ডাকে হেফাজতে ইসলাম। সমাবেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সেই রাতে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে মতিঝিল থেকে হেফাজতের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয়। এ অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগ দাখিল করে হেফাজতে ইসলাম। গত ১৯ জুলাই এ মামলার তদন্তের খসড়া প্রতিবেদন হাতে পায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। শাপলা চত্বর মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের পক্ষে শুনানি উপস্থাপন
এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত জনের পক্ষে গতকাল তৃতীয় দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আসামিপক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ইশরাত জাহান অনি। আজ সোমবার আসামিপক্ষে আবারও শুনানি উপস্থাপন করা হবে। এর আগে পাঁচ কার্যদিবসে আসামিদের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্কের শুনানি করে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম সাংবাদিকদের বলেন, আগামীকালও আসামিপক্ষে যুক্তিতর্কের শুনানি হবে। তাদের শুনানি শেষ হলে আমরা রিপ্লাই (পাল্টা যুক্তি) তুলে ধরব। রিপ্লাই দেওয়ার পর এ মামলাটি সিএভি (রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ) বা রায়ের তারিখ ধার্য করবেন ট্রাইব্যুনাল।