মেসির বিদায়বেলায় অঝোরে কাঁদলেন এনজো 

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫১ এএম

ম্যাচের আগে এমিলিয়ানো দিবু মার্তিনেজ বলেছিলেন, তিনি কেবল লিওনেল মেসিকে হাসতে এবং মাঠের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে দেখতে চান। মনুমেন্তালে মেসি ঠিকই হেসেছেন, সতীর্থদের সঙ্গে আলিঙ্গনাবদ্ধ হয়ে নিজের জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক রাতটি উপভোগও করেছেন। 

তবে সেই আনন্দ আর উদযাপনের আয়োজন শেষ পর্যন্ত রূপ নিল এক গভীর ভাবাবেগে, যেখানে পুরো স্টেডিয়াম তো বটেই, বিশ্ববাসীর চোখও ভাসল কান্নার জলে। মাঠের সেই আবেগঘন মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলো কেড়ে নিলেন তরুণ মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ, যার সান্ত্বনাহীন অঝোর কান্না মুহূর্তেই নজর থামিয়েছে সবার।

মনুমেন্তালে মেসি যখন মাইক্রোফোন হাতে উপস্থিত হাজারো দর্শকের উদ্দেশে তার বিদায়ী বক্তব্য রাখছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে ক্যামেরার লেন্স বন্দী করে নেয় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ম্যানচেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার তখন আর নিজের আবেগ একবিন্দু ধরে রাখতে পারেননি। কিংবদন্তির বিদায়ে সতীর্থদের মাঝেই ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করেন তিনি। তর সেই কান্নার দৃশ্য বুঝিয়ে দিচ্ছিল, এই বিদায় কেবল একজন জাতীয় দলীয় অধিনায়কের নয়, বরং এক অনুরাগী শিষ্যের মন ভেঙে যাওয়ার গল্প।

ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম থেকে বেরোনোর সময় আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে এনজো বলেন, ‘সত্যি বলতে এটি অত্যন্ত আবেগঘন একটি দিন, মনের ভেতর অনেক মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে। আমি আশা করি লিও আজকের দিনটি উপভোগ করেছে, আমরা তাকে ভীষণ মিস করব।’ 

এনজোর এই কান্নার পেছনে লুকিয়ে আছে দীর্ঘ এক শৈশবের স্বপ্ন ও ভালোবাসার গল্প। ২০১৬ সালে যখন মেসি একবার আকস্মিকভাবে জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন মাত্র ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর হিসেবে এক আবেগঘন চিঠি লিখেছিলেন এই তরুণ। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘আপনি যখন চলে যাওয়ার কথা বলেছিলেন, আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। তখন আমি কেবল এক ছোট ছেলে ছিলাম এবং আপনার ও আমার বয়স হিসাব করছিলাম; কখনও আপনার সঙ্গে খেলার সুযোগ পাব কি না, তা দেখার জন্য।’

আর ভাগ্যের কী অপূর্ব পরিহাস, পরবর্তী সময়ে কেবল একসঙ্গে খেলার সুযোগই পাননি, বরং একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করে মেসির হাত ধরে বিশ্বজয়ের স্বাদও নিয়েছেন তিনি।

চিঠিতে এনজো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আরও উল্লেখ করেছিলেন, ‘আমি দলে আসার পর থেকে আপনি যেভাবে আমার সঙ্গে আচরণ করেছেন, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব। আমার দেখা অন্যতম সেরা আইডলের সঙ্গে মাঠ ভাগাভাগি করার আশা নিয়ে এসেছিলাম, কিন্তু তার বদলে এমন একজনকে পেলাম যিনি প্রথম মুহূর্ত থেকেই আমাকে দলের একজন করে তুলেছিলেন।’

শৈশবের সেই হিসাব-নিকাশ আর বহু বছরের সতীর্থতার বৃত্ত আজ এভাবেই পূর্ণ হলো। ক্যাপ্টেনের বিদায়ে সেই বালকে উত্তরসূরি হয়ে ওঠা এনজোর চোখে গড়িয়ে পড়া জলের এই দৃশ্যকে মেসির প্রতি কৃতজ্ঞতার সর্বোচ্চ প্রদর্শন বললেও বোধহয় খুব একটা ভুল হবে না। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত