আগস্টে রপ্তানি আয় কমেছে ৬ শতাংশ

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৭ এএম

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে গত ১২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পণ্য রপ্তানি আয় করেছিল বাংলাদেশ। তবে পরের মাস আগস্টে সেই ধারা ধরে রাখা যায়নি। জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে পণ্য রপ্তানি আয় কমেছে ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৪৪২ কোটি ডলারের পণ্য, যা জুলাইয়ে ছিল ৪৭২ কোটি ডলার। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে ৩৯২ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। সেই হিসাবে চলতি বছরের আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুমাস জুলাই-আগস্টে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৯১৫ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৮৬৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ দুমাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এক মাসের ব্যবধানে রপ্তানি আয় কমলেও বছরভিত্তিক হিসাবে প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক। বিশেষ করে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পাট, চামড়া, ওষুধ, প্রকৌশল পণ্য ও জুতা রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি দেশের জন্য আশাব্যঞ্জক। তবে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির এই ধারা ধরে রাখতে নতুন বাজার তৈরি ও পণ্যের বহুমুখীকরণে জোর দেওয়া প্রয়োজন।

দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকের আয় গত বছরের আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়েছে। গত মাসে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৮৯ কোটি ডলার। অর্থবছরের প্রথম দুমাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৭৫০ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ১২ শতাংশ বেশি।

তৈরি পোশাকের দুই প্রধান উপখাত নিটওয়্যার ও ওভেনেও প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত বছরের আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে নিটওয়্যার রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকে বেড়েছে ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ। জুলাই-আগস্ট সময়ে নিটওয়্যার রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকে ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।

তবে মাসভিত্তিক হিসাবে জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে তৈরি পোশাক ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি কিছুটা কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে।

তৈরি পোশাকের বাইরে বেশ কয়েকটি খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত বছরের আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৩৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। ওষুধ ও ওষুধশিল্পে ২৮ দশমিক ৫২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ২৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ, মুদ্রিত সামগ্রীতে ২৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ, প্রকৌশল পণ্যে ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং অন্য জুতা রপ্তানিতে ১৫ দশমিক ২৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

অর্থবছরের প্রথম দুমাসের হিসাবে সবচেয়ে বেশি ৪১ দশমিক ৮৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মুদ্রিত সামগ্রী রপ্তানিতে। এ সময়ে ওষুধ ও ওষুধশিল্পে ৩৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ, অন্য জুতায় ২৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং পাট ও পাটজাত পণ্যে ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

রপ্তানি খাতের এ চিত্র বলছে, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্য পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে এসব খাতের প্রবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, পণ্যের মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ২৬ দশমিক ০৯ শতাংশ। জুলাই-আগস্ট দুমাসে দেশটির বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ। রপ্তানি বাজারের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। এরপর রয়েছে জার্মানি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস।

উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি। গত আগস্টে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১৪১ দশমিক ০৩ শতাংশ। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪২ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং সৌদি আরবে ৪২ দশমিক ০৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত