খুলনা মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবিরকে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় নগরের আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় এ খুনের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে ১৯ ঘণ্টার ব্যবধানে খুলনায় দুজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হলো। গত শনিবার রাত ১১টার দিকে নগরের লবণচরা এলাকায় দরগা কাশেমিয়া মসজিদসংলগ্ন সড়ক থেকে শহীদুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ বলেছে, দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। খুলনায় গত ১০ মাসে ৭১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।
নিহত হুমায়ুন নগরের আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকার সৈয়দ আনোয়ার আলীর ছেলে। খুলনা মহানগর বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে নিজের রেস্তোরাঁয় বসে ছিলেন হুমায়ুন। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কয়েকজন তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় বলেন, নগরের মোস্তফার মোড়ে আরাফাত নামের এক দোকানদারের কাছ থেকে কয়েক দিন আগে রেফ্রিজারেটর কিনেছিলেন হুমায়ুন। কিছু টাকা বকেয়া ছিল। সন্ধ্যায় আরাফাত ও তার ভাই বকেয়া টাকা চাইতে গেলে হুমায়ুনের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরে তারা ফিরে গিয়ে সহযোগীদের নিয়ে এসে হুমায়ুনকে কুপিয়ে জখম করেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে নিহত ব্যক্তির কোনো পূর্ববিরোধ ছিল কি না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
এদিকে গত শনিবার রাতে নিহত শহীদুলের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত শহীদুল মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও ছিল। পূর্বশত্রুতা বা মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকা- ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।