পেসার কমিয়ে সারা দিন গাধার খাটুনি

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২০ এএম

সিলেটে গতকাল সকালের এক ঘণ্টায় যে বোলিং আক্রমণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপে কাঁপন ধরিয়ে দেয়, দিনের বাকি সময়টায় সেই আক্রমণই যেন হয়ে পড়ে একেবারে নখদন্তহীন, নির্বিষ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ দল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগানোর মতো ধার আর ধরে রাখতে পারেননি বোলাররা। বরং দুই পেসারকে নিয়ে একাদশ সাজানোর সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হয়েছে দিনভর।

একদিকে পেসারদের টানা বোলিংয়ের চাপ, অন্যদিকে স্পিনারদের উইকেটশূন্য দীর্ঘ স্পেল। সব মিলিয়ে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিন শেষে স্বস্তিতে নেই স্বাগতিকরা। আমির জাঙ্গুর সেঞ্চুরি আর অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যামের ফিফটিতে লাক্কাতুরায় সুবিধাজনক অবস্থানে ক্যারিবীয়রা। আলোকস্বল্পতায় খেলা শেষ হওয়ার আগে ৭০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান তুলেছে।

দিন শেষে বাংলাদেশের বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্ট হেরে সিলেটে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়েও একাদশ সাজিয়েছে আগের মতোই দুই পেসার ও তিন স্পিনার নিয়ে। উইকেট বিবেচনায় সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের উইকেটে তিন পেসার খেলানোর যে প্রবণতা দেখা গেছে, এবার ব্যতিক্রম ঘটিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। মেঘলা আবহাওয়া, উইকেটে ঘাসের উপস্থিতি আর বাতাসে আর্দ্রতার সুবিধা নিয়ে তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ শুরুতেই বিপাকে ফেলেন উইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের। কিন্তু সকালের সেই সাফল্যের পর বাকি সময়টায় অমানবিক পরিশ্রম করেও সুবিধা পায়নি স্বাগতিকরা।

এ নিয়ে দিনের খেলা শেষে আক্ষেপ ঝরে তাসকিনের কণ্ঠে, ‘এক পর্যায়ে মনে হয়েছে যে আরেকজন পেসার থাকলে হয়তো ভালো হতো। সকালের এক ঘণ্টার আর্দ্রতা যেটা আমরা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল আরেকজন পেসার থাকলে আরেকটু লম্বা সময় বোলিং করা যেত। আমাদের তখন যেভাবে বল নড়াচড়া করছিল, আরও দুই-একটা উইকেট যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।’ যদিও ম্যাচের শেষ দুই দিনে স্পিনাররা ভাগ্য গড়ে দেবেন বলেই মনে করেন এই ডানহাতি পেসার, ‘ম্যাচ মাত্র শুরু হলো। উইকেট যে ধরনের, তাতে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম দিন আসলে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ হওয়ার সবচেয়ে ভালো সময়। তখন সেভাবেই পরিকল্পনা করছে যে, শেষ পর্যন্ত ফলাফল বের করার ক্ষেত্রে স্পিনারদের সহায়তা আসতে পারে। কিন্তু এটাও সত্য যে সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের বেশিরভাগ বোলিং সাফল্যে হয়তো পেসারদের ভূমিকা বেশি। সকালের পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে, আমার আরেকজন সতীর্থ যদি পেসার হিসেবে দলে থাকত, তাহলে বোলিং বিভাগটা আরেকটু ভালো হতো।’

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস : ৭০ ওভারে ২৩৫/৪ (কিং ৯, দা সিলভা ১২, হজ ১, উইকহ্যাম ৬১, জাঙ্গু ১১১*, গ্রেভস ৩৫*; তাসকিন ১৪-০-৬১-২, হাসান ১৪-১-৫৮-২, মিরাজ ১৮-২-৪২-০, তাইজুল ১৬-১-৪৫-০, নাঈম ৮-১-২৭-০)

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত