চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে আইএমএফ থেকে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি পাবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ। গতকাল সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানায়।
ওই সূত্র গণমাধ্যমকে জানায়, ‘আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কর্মকর্তারা বেশ কয়েকবার ঢাকা সফর করেছেন এবং বিভিন্ন খাতে সন্তোষজনক অর্জন পেয়েছেন। ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি যথাসময়ে ছেড়ে দেওয়া হবে।’
ইতিমধ্যে বাংলাদেশ কিছু খাতে সংস্কার করেছে এবং আইএমএফের প্রয়োজনীয় শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বশেষ তথ্য হালনাগাদ করেছে। তাই ঋণের পরবর্তী কিস্তি সময়মতো পাওয়ার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আইএমএফের নির্ধারিত মানদ-ের নিচে নেমে এসেছে। এ কারণে ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইএমএফের সাবেক অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর।
তবে ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি যথাসময়ে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সম্প্রতি আইএমএফের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল একাধিক বৈঠক করেছে। ঋণের দ্বিতীয় ধাপ যথাসময়ে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে ওই বৈঠকে আশ্বস্ত করেছে আইএমএফ প্রতিনিধিদল।
গত ফেব্রুয়ারিতে আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তি হিসেবে বাংলাদেশ পেয়েছে ৪৭ কোটি ৬ লাখ ২০ হাজার ডলার। ২০২৬ সাল পর্যন্ত সাড়ে তিন বছরে সাত কিস্তিতে আইএমএফের পুরো ঋণ পাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের।
সূত্র জানিয়েছে, ঋণের সুদের হার ম্যাচিউরিটির সময় বাজারের হারের ওপর নির্ভর করবে। এ ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয় হিসাব করেছে যে এই হার প্রায় ২ দশমিক ২ শতাংশ হবে।
বাংলাদেশ গত বছরের জুলাই মাসে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণের জন্য আবেদন করার পর শর্তসাপেক্ষে ঋণ দিতে রাজি হয় আইএমএফ। ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
তবে এই ঋণের পেছনে আইএমএফ বেশ কিছু সংস্কারের শর্তও বেঁধে দিয়েছিল। এগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজস্ব সংস্কার, মুদ্রা ও বিনিময় হারের সংস্কার, আর্থিক খাতের সংস্কার, জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত সংস্কার এবং সামষ্টিক কাঠামোগত সংস্কার। এসব শর্ত ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলতে থাকবে। তবে ঋণ পাওয়ার পর এক বছরের মধ্যে কয়েকটি শর্ত বাস্তবায়ন করতে হবে জরুরি ভিত্তিতে।
বর্ধিত ঋণ-সুবিধা (ইসিএফ) ও বর্ধিত তহবিল-সুবিধার (ইএফএফ) আওতায় এই ঋণের অনুমোদন দেয় আইএমএফ। এর উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চলমান অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় সহায়তা।
যদিও আইএমএফ বাংলাদেশ ব্যাংককে বলেছে, মুদ্রা বাজারে নিয়মিত ডলার না ছেড়ে বিশেষ পরিস্থিতিতে ছাড়তে। কিন্তু চলতি অর্থবছরের দুই মাস না পেরোতেই ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারে।
এ ছাড়া আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী বিপিএম-৬ হিসাব পরিপালন করলে রিজার্ভ কমে দাঁড়াবে ২৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের মার্কিন ডলার আয়ের বৃহত্তম দুই উৎস রপ্তানি ও রেমিট্যান্স এখনো ইতিবাচক ধারায় রয়েছে, কিন্তু বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে চলতি বছরে এই দুই খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই।
এ ছাড়া সরকারের রাজস্ব সংস্কারের তেমন কোনো কার্যকর প্রতিফলনও নেই অর্থনীতিতে। সম্প্রতি গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি প্রবেশের অনুমতি চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। সর্বশেষ জুলাই মাসে রাজস্ব ঘাটতি ২ হাজার কোটি টাকার ওপরে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এই মাসে ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। তবে এই অঙ্কও চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম।
চলতি অর্থবছর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, জুলাই মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২০ হাজার ৫৬১ কোটি টাকার। কিন্তু তা সত্ত্বেও লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে। জুলাইয়ে মূল্য সংযোজন করে (ভ্যাট) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ৫১ শতাংশ। জুলাইয়ে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ৭ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা।
