৫৪ বছরের বিবাদ এক ফিঙ্গারপ্রিন্টে সমাধান!

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৩, ০৪:২৮ এএম

৫৪ বছর আগে বিক্রি হওয়া জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে চাচা-ভাতিজা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকে। সামান্য কথা থেকে বিবাদ মারামারিতে গড়ায়। এভাবে কৃষক পরিবার দুটি বিভিন্ন সময় মামলা-মোকদ্দমায় গিয়েও সমাধান খুঁজে পায়নি। ভাতিজার অভিযোগ, জালিয়াতির মাধ্যমে তার বাবার জমি আত্মসাৎ করেছেন চাচা। অন্যদিকে চাচা ওই জমি কিনে নেওয়ার প্রমাণ হিসেবে একটি দলিল উপস্থাপন করেন। তবে মামলার তদন্তভার পেয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের মাধ্যমে বিবদমান বিরোধের সমাধান হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির মুখপাত্র অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আজাদ রহমান মামলাটি তদন্তের কথা জানিয়ে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আদালত সিআইডিকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার পর যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তদন্তে বিবাদীর দলিল ও দলিলে থাকা ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের পর দেখা যায় জমিটি আগেই তার কাছে বিক্রি করা হয়েছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছে, গাজীপুরের সদর এলাকার লাবিব উদ্দিন ও ইনাম উদ্দিন দুই ভাই। লাবিব উদ্দিনের মৃত্যুর পর তার ছেলে মো. নজরুল ইসলাম (৫০) অভিযোগ করেন, তার বাবার পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে পাওয়া ৯ শতাংশ জমি তার চাচা ইনাম উদ্দিন হস্তান্তর করেননি। লাবিব উদ্দিনের মৃত্যুর পর ইনাম উদ্দিন অন্য লোককে লাবিব উদ্দিন সাজিয়ে নিজে দলিল গ্রহীতা হিসেবে একটি দলিল তৈরি করে ৯ শতাংশ জমি আত্মসাৎ করেছেন।

নজরুল ইসলাম এই অভিযোগ নিয়ে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন। মামলায় তার চাচা ইনাম উদ্দিন, চাচাতো ভাই মো. জহিরুল ইসলাম ও মো. আবু বকর (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে আসামি করেন।

মামলাটি আদালত সিআইডিকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার পর বাদীর বাবা লাবিব উদ্দিনের টিপসই পরীক্ষার জন্য আদালতে পাঠায়। পরে ওই দলিল ও টিপসই পরীক্ষার জন্য সিআইডির ফরেনসিক শাখায় পাঠায়। সিআইডির হস্তরেখা বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে দেখতে পান আলোচিত ৯ শতাংশ জমির দাতা হিসেবে দেওয়া আঙুলের ছাপ বাদীর বাবা লাবিব উদ্দিনেরই।

সিআইডির তদন্তে আরও জানা যায়, লাবিব উদ্দিন সাংসারিক কারণে টাকার দরকার হওয়ায় তিনি ওই জমিটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বাদীপক্ষের সবার জ্ঞাতসারে জমি বিক্রি করে বিবাদীপক্ষের কাছে জমির মালিকানা ও দখল বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।

ওই সময় জমির বাজারমূল্য কম ছিল। বর্তমানে জমির বাজারমূল্য বহুগুণে বেড়েছে। ফলে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির পরামর্শে এবং বাদীপক্ষ কৌশল অবলম্বন করে মামলা করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হারুনুর রশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ১৯৬৯ সালে বাদীর বাবা এই জমি তার আর্থিক প্রয়োজনে চাচার কাছে বিক্রি করেন। ২০২০ সালে তিনি মারা যাওয়ার পর তার দখলে থাকা ওই জমিটির দলিল দেখিয়ে মালিকানা দাবি করেন বিবাদী। ৯ শতাংশের ওই জায়গাটির বর্তমান দাম প্রায় ২৭ লাখ টাকা। ওই এলাকায় ক্রমশ জমির দাম বাড়তে থাকায় বাদীপক্ষ ছাড়তে নারাজ ছিল। ফলে তাদের মধ্যে বিবাদ থেকে একাধিক মামলাও হয়।

বাদী মো. নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সিআইডির করা এই তদন্তে সঠিকভাবে হয়নি। জায়গাটি প্রকৃতপক্ষে আমাদেরই। এই মামলার তদন্ত আবার করার জন্য আদালতে নারাজি দেব।

তিনি আরও বলেন, বাবা বেঁচে থাকাকালে এই জমি বিক্রি করেছেন এমন কোনো কথা আমাদের বলেননি। এই জায়গা আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করে আসছি। কিন্তু চাচা প্রভাব খাটিয়ে আমাদের এই জমি নেওয়ার জন্য ভুয়া দলিল দেখাচ্ছেন। এখন এ ঘটনায় মামলা দেওয়ার পরও তিনি নানাভাবে রায় তার পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত