দেশে এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা সাড়ে পাঁচশ ছাড়াল। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে মারা গেছে আরও আটজন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত এ বছর মারা গেল ৫৫৬ জন। এর মধ্যে এ মাসের গত ২৮ দিনেই মারা গেছে ৩০৫ জন, যা মোট মৃত্যুর ৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ এ মাসে দৈনিক গড় মৃত্যু ছিল ১১ জন করে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে এবারই প্রথম এত মৃত্যু হলো। এর আগে ২০২২ সালে ২৮১ এবং ২০১৯ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এ বছর মারা যাওয়া ৫৫৬ জনের মধ্যে ৪১০ জনই মারা গেছে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে। বাকি ১৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকার বাইরে।
এ বছর পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হলেও মারা গেছে বেশি নারী। পুরুষ রোগী পাওয়া গেছে ৭২ হাজার ৬৯৭, যা মোট আক্রান্তের ৬২ শতাংশ ও নারী ৪৪ হাজার ১৪৫, যা মোট রোগীর ৩৮ শতাংশ। অথচ নারী মারা গেছে ৩২০, যা মোট মৃত্যুর ৫৮ শতাংশ ও পুরুষ মারা গেছে মোট মৃত্যুর ৪২ শতাংশ বা ২৩৬ জন।
নারী ও পুরুষদের মধ্যে বেশি মারা গেছে ৯ শতাংশ করে ২১-২৫ বছর, ৩১-৩৫ বছর ও ৩৬-৪০ বছর বয়সীরা। ৮ শতাংশ করে মারা গেছে ২৬-৩০ বছর ও ৪১-৪৫ বছর বয়সী নারী ও পুরুষ।
এদিকে এখনো এ মাসের তিন দিন বাকি রয়েছে। কিন্তু এই ২৮ দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরের পুরো সময়ের আক্রান্ত ও মৃত্যুকে ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল পর্যন্ত এ মাসে আক্রান্ত হয়েছে ৬৫ হাজার ১০ জন। কিন্তু গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৬২ হাজার ৩৮২ জন। একইভাবে এ মাসে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৩০৫ জন, যা গত বছর ছিল ২৮১ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ২ হাজার ৩৩১ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকার বাইরে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৪১৩ ও ঢাকায় ৯১৮ জন। এ নিয়ে এ বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৪২। তাদের মধ্যে ৬১ হাজার ৫১৫ ঢাকার বাইরের ও ঢাকায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫৫ হাজার ৩২৭ জন। হাসপাতালে ভর্তির এই সংখ্যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
বর্তমানে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৮ হাজার ২১২ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকায় ৩ হাজার ৯১৩ এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলায় ৪ হাজার ২৯৯ জন চিকিৎসা নিচ্ছে।
