পরিকল্পনাহীন ব্যাটিংয়ের মাশুলে হার

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:৪৫ এএম

দুই ঘটনায় শ্রীলঙ্কার কাছে হারের আঙুল তোলা যায়। ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম ৪৬ বলে করলেন ২১, মাত্র একটি চারে। ২৫ বল বেশি খেলে কোনো রান নেই। ওই বলগুলোতে স্ট্রাইক রোটেট করতে ব্যর্থ তিনি। এরপর ৩৮তম ওভারে মুশফিকুর রহিম। পাকিস্তানের সঙ্গে যেভাবে আউট হয়েছিলেন ঠিক সেই শট নিতে গিয়ে গড়ে ওঠা জুটির বিসর্জন দিলেন। ডাউন দ্য উইকেটে এসে সেবার ব্যাটে বল করতে পারেননি, এবার বল ব্যাটে লাগলেও দুর্বল শটে তা মিডঅফে ফিল্ডারের হাতে। হারজিত খেলার অংশ তবে পরিকল্পনার অভাবে নিজেদের হারের দিকে ঠেলে দেওয়ার ভুল বাংলাদেশ করে বারবার। কাল আরও একবার এমন ভুলে ২১ রানে হারের হতাশা জুটল।

ওই দুই জায়গায় নাঈমের সিঙ্গেল ও মুশফিক মাথা ঠান্ডা রাখলে লঙ্কানদের সঙ্গে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারত বাংলাদেশ। ২৫৮ রানের লক্ষ্যে নেমে ২৩৬ রান করে হতাশার হার হজম করতে হয় না। সুপার ফোরে এখন টানা দুই হার সাকিব আল হাসানদের। ভারতের সঙ্গে শেষ ম্যাচ জিতলে অঙ্কের মারপ্যাঁচে হয়তো ফাইনাল সম্ভাবনা থাকবে। তবুও পরিকল্পনার অভাবে ম্যাচ হারের ভুল থেকে বাংলাদেশ শিক্ষা নেবে কবে। ৯৭ বলে ৮২ রানের ইনিংস খেলে জয়ের আশা জাগানো হৃদয়ের হৃদয় ভাঙল অপর প্রান্তে জুটির অভাবে। বিরহের নায়ক হয়েই রইলেন তিনি।

বৃষ্টির ভয় নিয়ে এশিয়া কাপ সুপার ফোরের শ্রীলঙ্কা পর্ব শুরু হয়। প্রথম ম্যাচে বৃষ্টির বাগড়া আসেনি অবশ্য। স্বচ্ছ আকাশ পুরো ম্যাচ হওয়ার স্বস্তি নিয়ে এসেছে এশিয়া কাপের জন্য। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিটা কি শতভাগ হলো! ২৫৮ রানের স্কোর তাড়া করতে নামা দলের জন্য যা মোটেও স্বস্তির নয়। তাই আড়াইশ ছাড়ানো স্কোরই হয়ে উঠেছে খুব বেশি চ্যালেঞ্জিং।

আগেই জানা ছিল লাহোরের মতো রান উর্বর ম্যাচ কলম্বোয় দেখা যাবে না। লঙ্কান উইকেট অনেকটা বাংলাদেশের মিরপুরের মতো। এখানে বল পিচ করে স্লো হয়ে যায়। তাই রান করা কঠিন। ব্যাটারদের খুব দেখেশুনেই খেলতে হয়। বাংলাদেশের দুই ওপেনার দেখেশুনেই খেলছিলেন। শুরুর ১০ ওভারে বিনা উইকেটে এলো ৪৭ রান। ৯ ম্যাচ পর এই প্রথম পাওয়ারপ্লেতে উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। আরও এক ওভার পর ৫৫ রানে পৌঁছে যায় দল। ঠিক তখনই চাকা ঘুরে যায়। শুরুতে আউট হলেন স্বতঃস্ফূর্ত খেলতে থাকা মিরাজ। বদলি ওপেনার হিসেবে দারুণ সফল এই ব্যাটার শানাকার বলে পুল করতে গিয়ে মিডউইকেটে ক্যাচ দিলেন ২৯ বলে ২৮ রান করে। দুই ওভার পর উইকেটে ধুঁকতে থাকা নাঈম আউট হলেন শানাকার বল রিড করতে না পেরে। ৪৬ বল খেলে ১ চারে মাত্র ২১ রান করে ফেরেন নাঈম। পরের দুই উইকেট পড়েছে আরও দ্রুত। পাথিরানার অফস্টাম্পের বাইরের বলে অযথাই খোঁচা মেরে কট বিহাইন্ড হন ৩ রান করা সাকিব। আর ভরসা নষ্ট করে আরও একবার ইনিংসের শুরু পেয়ে ২৪ বলে ১৫ করে ফেরেন লিটন।

তাওহিদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে ৭২ রানের জুটি হয়ে যায়। পিছিয়ে পড়া থেকে বড় আশা জাগে বাংলাদেশের। কিন্তু এবার আশাহত হতে হলো রান তোলার চাপে। দুই ব্যাটার ক্রিজে নতুন আসার পর বেশ নড়বড়ে এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। শুরুর ওই কঠিন সময় কাটিয়ে ধীরে স্বচ্ছন্দ অবস্থানে আসেন মুশফিক ও হৃদয়। প্রয়োজনীয় রানরেট ৭ এর ওপর থাকলেও দুজনের ব্যাটে বড় ভরসা রাখছিল বাংলাদেশ। কিন্তু অনুজ ভুল না করলেও অগ্রজ করলেন অতীত যুগের ‘বাংলাদেশি’ স্টাইলের ভুল। দারুণ এক ইনিংসকে হঠাৎ মাথা গরম করে বিসর্জন দিলেন। ওই সময়ে ডাউন দ্য উইকেটে এসে না মেরে ইনিংস আরও লম্বা করতে পারতেন মুশফিক। হৃদয়ের মতো ৮২ রানের না হোক কাছাকাছি স্কোরের একটি ইনিংস উপহার দিতে পারতেন দলকে। মুশফিকের ভুলেই তা হয়নি। দলও তাই অভিজ্ঞতার ঝাঁপিতে চড়ে জয়ের বন্দরে যেতে পারেনি। মুশফিক ফেরার পর এমন চাপের মুহূর্তে খেলার অভিজ্ঞতাহীন শামীম ৫ রানের বেশি করতে পারেননি। লেজের দিকে নাসুম ১৫ রান করে হারের ব্যবধান কমিয়েছেন কেবল।

লঙ্কান ইনিংসের নায়ক হয়েছেন সাদিরা সামারাবিক্রমা। ডানহাতি এই ব্যাটারের ক্যারিয়ারসেরা পারফরম্যান্সে লঙ্কানদের আটকে রাখার পথে সফল হতে পারেননি বাংলাদেশ বোলাররা। এই ব্যাটার ক্যারিয়ারসেরা ৯৩ রান করেছেন কাল। মাত্র ৭২ বলে, ১৯ ম্যাচের ক্যারিয়ারে কালই প্রথম ওয়ানডে আন্তর্জাতিকে ছক্কা মেরেছেন সামারা। ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা শুরুতে একপ্রান্ত আগলে ৬০ বলে ৪০ করেন। তিনে নামা কুশল মেন্ডিস ৭৩ বলে করেছেন ৫০। এ দুই ব্যাটার ক্রিজে থেকে ৭৪ রানের জুটি গড়েন। লঙ্কান ইনিংসে এটাই বড় জুটি। তাদের জুটি সত্ত্বেও রানরেট খুবে বেশি ছিল না শ্রীলঙ্কার। চারে নেমে সামারাবিক্রমা তা ৫ এর ওপর নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক দাসুন শানাকার ৩২ বলে ২৪ রানের ইনিংসও লঙ্কার রানরেট ৫ এর ওপর রাখতে সহায়তা করে। দিন শেষে সামারার ওই ইনিংসই হয়তো বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মাঝে বড় ব্যবধান হয়ে থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত