বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ছবিমেলা শুরু ২৮ ফেব্রুয়ারি

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০৭:৩৭ পিএম

আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘ছবিমেলা’র দশম আসর শুরু হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি, চলবে ৯ মার্চ পর্যন্ত। বিশ্বের ২০ দেশের ৩৫ জন আলোকচিত্রীর তোলা ছবি প্রদর্শিত হবে এবারের মেলায়। থাকছে ২৭টি প্রদর্শনীর আয়োজন। এ ছাড়া রিকশা ও ভ্যানে হবে বিশেষ প্রদর্শনী।

রাজধানীর পান্থপথে দৃক গ্যালারির প্রধান কার্যালয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানানো হয়। উপস্থিত ছিলেন উৎসবের পরিচালক আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ও মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির।

উৎসব সম্পর্কে শহিদুল আলম বলেন, “পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় আলোকচিত্রীদের অনেকে আমাদের এই উৎসবের সঙ্গে জড়িত আছেন। অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। এশিয়ার প্রধান আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে ছবিমেলা। এবারের আয়োজনে আমরা আলোকচিত্রীদের বাইরেও শিল্পকলার সঙ্গে জড়িত অনেক গুণী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেছি। যারা পৃথিবীকে অন্যভাবে দেখেন তাদের পরামর্শ নেওয়ার জন্য তাদেরকেই উপদেষ্টা পরিষদে রেখেছি।”

ছবিমেলার উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, খুশী কবির, নেপালের প্রকাশক ও লেখক কুণ্ডা দীক্ষিত, ভারতীয় জনপ্রিয় আলোকচিত্রী রঘু রায়, অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান, সাহিত্য সমালোচক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল।

অতিথির বক্তৃতায় খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, “ছবি কথা বলে। যে কথাগুলো মুখের কথা দিয়ে বোঝানো যায় না সেগুলো ছবি দিয়ে বোঝানো হয়। সিরিয়াতে যখন যুদ্ধ শুরু হলো তখন অনেক অভিবাসী দেশ ছেড়ে পালাচ্ছিল। এটা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। প্রচুর নিবন্ধ লেখা হয়েছে। ‍কিন্তু অ্যাঙ্গেলা মার্কেল ছাড়া ইউরোপিয়ানরা তাদের গ্রহণ করছিল না। সেসময় একটি ছোট বালকের মৃতদেহ সমুদ্র তীরে পড়ে ছিল। একজন ফটোগ্রাফার সেই ছবিটি ক্যামেরাবন্দী করেন। ছবিটি ছাপা হয়নি এমন কোনো পত্রিকা নেই। তারপর সমগ্র ইউরোপে জাগরণ হলো। অভিবাসীদের ব্যাপারে ইউরোপীয়রা নমনীয়তা দেখাল। এখান থেকে প্রমাণিত হয় যে বক্তৃতা দিয়ে যা হয় না, তা ছবি দিয়ে হয়। একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধেও এমনটা হয়েছিল। এ রকম অনেক উদাহরণ দেওয়া যায়। তাই ছবির আবশ্যকতা রয়েছে।”

দর্শনার্থীরা দৃক-পাঠশালার নবনির্মিত ভবন, দৃক গ্যালারি ১ ও ২ (ধানমন্ডি), দৃক গ্যালারি ৩ (পান্থপথ) এবং অলিয়ঁস ফ্রঁসেজে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের আলোকচিত্রীর তোলা ছবি দেখতে পারবেন। প্রদর্শনীর পাশাপাশি থাকবে নিয়মিত আলোচনাসভা ও কর্মশালা। এ ছাড়া এ বছরের মূল বিষয় ‘স্থান’। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে আর্টিস্ট টক এবং প্যানেল আলোচনাও হবে।

২০০০ সাল থেকে প্রতি দুই বছর অন্তর আয়োজিত হচ্ছে ছবিমেলা। এবারের উৎসবে একজন দেশি ও একজন বিদেশি আলোকচিত্রীকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হবে। তবে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

দৃক পিকচার লাইব্রেরি লিমিটেড ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট যৌথভাবে এই উৎসবের আয়োজন করছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত