সারওয়ার চৌধুরীর ‘লৌকিক মায়া অলৌকিক সুন্দর’ প্রকাশিত

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৭:৩৮ পিএম

অগ্রদূত অ্যান্ড কোম্পানি প্রকাশ করেছে সারওয়ার চৌধুরীর গদ্যের বই ‘লৌকিক মায়া অলৌকিক সুন্দর’। লেখক জানালেন, রোববার থেকে বইটি একুশে বইমেলার ৫৮৮ নম্বর স্টলে পাওয়া যাচ্ছে।

বইটির ভূমিকায় সারওয়ার চৌধুরী লেখেন, “ঐ দূরের তারাদের নিজস্ব মহিমা আছে ঠিক, কিন্তু সূর্য্যের সামনে তারা ম্লান, স্ফুর্তিশূন্য, আমরা এমনই দেখি। কারণ, সূর্য্যের রওশন তাদের চেয়ে বেশি। এই কম বেশি থাকা এক অনির্বচনীয় সুন্দর। কম-বেশির দ্বৈততা না থাকলে মিল-মিশের প্রজ্ঞার মূল্য কই? মিল আসবার কনটেক্সট সেখানেই, যেখানে কম-বেশি আছে।

শক্তির কম বেশি নাই— এমন বাস্তবতাতে সৃজনশীলতাই থাকে না। কাজের জুইত থাকে না। স্ট্রং ফোর্স উইক ফোর্স থাকতে হয়। নিউক্লিয়ার ফিশনে  নিউক্লিয়ার উইক ফোর্স অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। আমাদের এই তিন মাত্রার স্থানিক জীবনে সুবিধাজনক থাকার জন্যে ছোট বড় থাকতে হয়, উঁচু নীচু থাকতে হয়। এ যেন ঠিক উঁচু নীচু থাকা না, সখি আর সখার মতো অনিবার্য।

আর ঐ যে জঙ্গলের ভিতরের ছোট নালার জলপ্রবাহ, সেই প্রবাহ যাচ্ছে খালে, গাঙ্গে, গাঙ্গ থেকে নদীতে, নদী থেকে সাগরে মহাসাগরে, প্রশান্ত মহাসাগরে। প্রবাহের সাথে প্রবাহ মিশছে। ফকির লালন বলেন— 'ধারায় ধারা মিশে আছে'।

মহাসাগরে সবকিছু যায়। ময়লা-আবর্জনাও যায় — সভ্য মানুষের অসভ্য মানুষের শরীর ধোয়া পানি, শহর বন্দর গ্রামের পানি, পচা পানি ভাল পানি, শত্রুতার পানি, মিত্রতার পানি, মাটির গর্ভ থেকে তোলা বিশুদ্ধ পানি, সব সব যায়, সব গিয়ে মহাসমুদ্রে একাকার।

নালায় বা খালে ডাইভ দ্যায় মাছরাঙ্গা, মহাসমুদ্রে ডাইভ দ্যায় গ্যানিট পাখি।

এইসব দেখতে দেখতে ছুটছে সবাই ইন্তেকালের দিকে — স্থানান্তরের দিকে। পাখিটিও যায়, তার ছানাও যায়, গভীর সমুদ্রের মারিয়ানা ট্রেঞ্চের অচিন প্রাণীটিও যায়, পুস্পবৃক্ষও যায়। মানুষ ত যায়ই। যেতে যেতে যেন মনে হয় মানুষ পৌঁছতে পারে ধারণাসমুহের সর্বোচ্চ শিখরে, বিশেষত যারা যেতে চায়, যেনবা কারো দৈবযোগ অমনই। সে-যায়গা নিত্যানন্দের যায়গা, সেখানে নফস থাকে মোতমাইন, থাকে চির বর্তমান। থাকে যেনবা চলমান লৌকিক ফেনোমেননের ভিতর দিয়ে অলৌকিক স্নেহের পথে অবিরাম...।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত