উন্নয়নে নগরের অবদান ক্রমাগত বাড়ছে

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ০১:০১ পিএম

খ্যাতিমান ভূগোল ও পরিবেশবিদ, নগর বিশেষজ্ঞ ও শিল্প সমালোচক অধ্যাপক নজরুল ইসলামের জন্ম ১৬ এপ্রিল ১৯৩৯, শরীয়তপুর জেলায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে ১৯৬৩ সালে শুরু করে চার দশকেরও বেশি সময় শিক্ষকতা করেছেন। এর মাঝে চার বছর (১৯৮২-৮৬) ব্যাংককের ‘এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’তে নগর উন্নয়ন বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। ১৯৯৯-২০০২ সালে ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ২০০৭-২০১১ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন খ্যাতিমান এই অধ্যাপক। স্বাধীন গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাম্মানিক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। বাংলা একাডেমির সম্মানসূচক ফেলো, বাংলাদেশ ভূগোল পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও ফেলো তিনি। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স-এর সাম্মানিক সদস্য তিনি। ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারের নগরায়ণ, নগর উন্নয়ন ও নগর পরিকল্পনাবিষয়ক নানা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন এবং বর্তমানে ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’ প্রকল্পের উপদেষ্টা প্যানেলের সদস্য তিনি। ভূগোল, পরিবেশ, নগরায়ণ ও শিল্পকলা বিষয়ে দেশে ও বিদেশে প্রকাশিত ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় রচিত ও সম্পাদিত ২৬টি গ্রন্থ এবং শতাধিক গবেষণা প্রবন্ধ রয়েছে তার।

সদ্য আশিতম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন করা খ্যাতনামা এই নগর বিশেষজ্ঞ দেশে নগরায়ণের নানা দিক নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অনিন্দ্য আরিফ

দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশে নগরায়ণের হার এখন কেমন? এখানে কি খুব খুব দ্রুত নগরায়ণ ঘটছে?
নজরুল ইসলাম : একবিংশ শতাব্দীতে এসে বাংলাদেশে নানা ধরনের পরিবর্তন সূচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হয় তখন নগরায়ণের পরিমাণ ছিল মাত্র ৮ শতাংশ। এখন এ পরিমাণ ৩০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ এখন নগরবাসী। আমাদের জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি। এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ পাঁচ কোটি এখন নগরবাসী, যা কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার কাছাকাছি। গত চার-পাঁচ দশকে বাংলাদেশের গ্রামীণ জনসংখ্যার নগরবাসীতে রূপান্তরের হার দ্রুতগতিতে বেড়েছে। ২০১১-২০২১ সালের যে আদমশুমারি দশক তাতে এই হার তিন শতাংশ থেকে সাড়ে তিন শতাংশের মধ্যে ছিল। অর্থাৎ গ্রামীণ জনসংখ্যার নগরবাসীতে রূপান্তর বাড়ছে।

দেশ রূপান্তর : জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে এই নগরায়ণের সম্পর্কটা কী রকম? আগামী দিনগুলোতে এই নগরায়ণ কী রকম প্রভাব ফেলবে?
নজরুল ইসলাম : শহরে এবং গ্রামে জন্মহার এখন প্রায় একই রকম। বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এখন ১.৩ কিংবা ১.৪ শতাংশ। কয়েক দশক আগে এটা তিন বা সাড়ে তিন শতাংশ ছিল। ঢাকার জনসংখ্যা এখন প্রায় দুই কোটি। আর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় জনসংখ্যা এক কোটির বেশি। সারা দেশে যদি নগরীয় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সাড়ে তিন শতাংশ হয় তাহলে ঢাকায় এটা আরেকটু বেশি। সেটা হলো চার শতাংশ। শহরের জনসংখ্যা যে হারে বাড়ছে, তাতে ২০৪৫ সাল নাগাদ এটি দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি হবে। ধরা যাক ৫০:৫০। যদি জনসংখ্যার হার নিয়ন্ত্রণ করা যায় তাহলে ২০৪৫-৪৬ সাল নাগাদ দেশের জনসংখ্যা হবে কমপক্ষে ২০ কোটি। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তখন গ্রাম ও শহরের জনসংখ্যা হবে ১০ কোটি : ১০ কোটি।

দেশ রূপান্তর : রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতেও তো বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস করছে। জনসংখ্যার বিবেচনায় নগর ও গ্রামের এই বিন্যাসটি কেমন?
নজরুল ইসলাম : রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশে এখন বিভাগীয় শহর আটটি, জেলা শহর ৬৪টি আর উপজেলা সদর প্রায় ৫০০টি। এ ছাড়া আরও শহর আছে। সরকারি হিসাবে দেশের মোট শহর ৫০৫টি। শহরের একটি সংজ্ঞা আছে। তাতে বলা হয়েছে, বসতিটি কমপক্ষে পাঁচ হাজার জনসংখ্যা অধ্যুষিত হতে হবে এবং এদেরকে প্রধানত অকৃষিজীবী হতে হবে। ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে নগরের পরিমাণ ৫০ শতাংশ হবে এবং ২০৭৫ সাল নাগাদ তা হয়তো ৭৫ শতাংশ হবে। সরকার ২১০০ সালকে যে ডেল্টা প্ল্যানের লক্ষ্যমাত্রায় রেখেছে তখন জনসংখ্যা কমে, বেড়ে ২০ কোটিই হবে। এই লক্ষ্যানুসারে বাংলাদেশে তখন নগরের জনসংখ্যা হবে ১৯৭২ সালের ঠিক বিপরীত। তখন নগরে বাস করত জনসংখ্যার ৮ ভাগ, আর গ্রামে বাস করত ৯২ ভাগ। ২১০০ সালে এর বিপরীতটা হবে। তখন শহরে বাস করবে ৯০ ভাগের বেশি আর গ্রামীণ জনসংখ্যা হবে ১০ ভাগের কম। অর্থাৎ বাংলাদেশ তখন পুরো নগরায়িত দেশে পরিণত হবে। যেমনটা সিঙ্গাপুর বা অস্ট্রেলিয়া। সিঙ্গাপুর শতভাগ নগরায়িত, আর অস্ট্রেলিয়া ৯০ ভাগ।

দেশ রূপান্তর : আমরা এখন গ্রামগুলোকে শহরে পরিণত করার কথা শুনছি। বাংলাদেশ কি তাহলে খুব দ্রুতই একটা নগরায়িত দেশে পরিণত হবে?
নজরুল ইসলাম : ২০৪৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশে পরিণত হবে। তখন বাংলাদেশকে নগরায়িত দেশ বলা যাবে। ২০৭৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশ উঁচু মাত্রার নগরায়িত দেশে পরিণত হবে। আর ২১০০ সালে বাংলাদেশ পুরো নগরায়িত দেশে পরিণত হবে। এটা অবধারিত। অর্থাৎ শহরের সেবা গ্রামে পৌঁছাবে। নগরায়ন দুইভাবে হতে পারে- ১. গ্রামের জনসংখ্যা শহরে স্থানান্তরের কারণে। ২. গ্রামে শহরের মতো পরিষেবা পৌঁছানোর মাধ্যমে। তার মানে শহরের মতো সব পরিষেবা গ্রামে থাকা, শহরের সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিষেবা গ্রামে পৌঁছানো। শহরের মতো বিদ্যুৎ, পানি থাকা, পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকা। শহরের মতো রাস্তা থাকবে, শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে, স্বাস্থ্য পরিষেবা থাকবে।

গ্রামে এরই মধ্যে রাস্তা পাকা হচ্ছে। এখন বাড়িগুলো কী হবে তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। অনেকেই বলছেন গ্রামের বাড়ি একতলা বা দোতলার কাঠামো পরিবর্তন করে চারতলা ও পাঁচতলা করতে হবে। আমার মতে, এটার প্রয়োজন নেই। কেননা গ্রাম থেকে শহরে লোকজন চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ গ্রামে সম্পন্ন পরিবার অর্থাৎ উচ্চবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের ঘরগুলো প্রায়ই ফাঁকা থাকে। নিম্নবিত্ত পরিবারের লোকজন ও অনেকে গ্রাম ছাড়ছেন না। তাই আমার ধারণা হলো, ঘরগুলো দ্বিতল করতে পারলেই যথেষ্ট। তাতে দেড় থেকে দ্বিগুণ মানুষ থাকতে পারবে। গ্রামকে শ্যামল, ছায়ানিবিড় রাখাই ভালো।

দেশ রূপান্তর : গ্রামাঞ্চলে নগরায়ণের বিষয়টি তাহলে কী রকমভাবে হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
নজরুল ইসলাম : গ্রামীণ জনপদে নগরায়ণ সম্ভব। বাংলাদেশ সেদিকেই এগোচ্ছে। শুধু নগরের পরিষেবা গ্রামে পৌঁছে দিতে হবে। এটাকে বলে ‘রুরাল আরবানাইজেশন’ বা ‘গ্রামীণ নগরায়ণ’ কিংবা ‘ইনসিটু আরবানাইজেশন’ বা ‘অকুস্থলে নগরায়ণ’। অর্থাৎ গ্রামের জনগণ মূলত গ্রামেই থাকবে। শহরের সুযোগ-সুবিধা গ্রামেও থাকবে। একটি টার্ম আমরা ব্যবহার করে থাকি। সেটি হলো ‘প্রাইমেট সিটি’ বা ‘নিয়ন্তা শহর’। এর অর্থ একটি দেশের প্রধান শহরের জনসংখ্যা দ্বিতীয় শহরের দ্বিগুণ বা আরও বেশি থাকা। ঢাকা এমন একটি শহর। দ্বিতীয় শহর চট্টগ্রাম থেকে এর জনসংখ্যা কয়েকগুণ। বৃহত্তর ঢাকার মোট জনসংখ্যা এখন ১ কোটি ৭০ লাখ। আমাদের রাজধানী দেশের একেবারে কেন্দ্রে অবস্থিত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকায় যোগাযোগ বা যাতায়াত করা সম্ভব। যেকোনো দূরবর্তী জায়গা থেকে ঢাকায় যাতায়াত সহজ বলে এর জনসংখ্যা কমানো কঠিন। দ্বিতীয় প্রধান শহর চট্টগ্রামের জনসংখ্যা ষাট লাখের মতো। এরপরে রয়েছে ছয়টি বিভাগীয় শহর। এগুলোর জনসংখ্যা পাঁচ লাখের বেশি। জেলা শহরগুলোর অনেকগুলোতে এক লাখের বেশি লোক থাকে। যে শহরে দশ লাখের বেশি লোক, তাকে ‘মিলিয়নার’ শহর বলে। মালদ্বীপের জনসংখ্যা চার থেকে পাঁচ লাখ। দেশটির রাজধানী মালেতে থাকে এক লাখের মতো লোক। অর্থাৎ বাংলাদেশের জেলা শহরগুলোর মতো জনসংখ্যা।

দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় নগরের অবদানকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
নজরুল ইসলাম : যত বড় শহর তার প্রভাববলয় তত বেশি। যেমন ঢাকা শহরের প্রভাববলয় সারা বাংলাদেশে। চট্টগ্রাম তার আশপাশের অঞ্চলকে প্রভাবিত করে। খুলনা দক্ষিণবঙ্গের ওই অংশকে প্রভাবিত করে। বাংলাদেশের জিডিপি এখন সম্ভবত ২৭৫ বিলিয়ন ডলার। এটা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই জিডিপির ৬৫ ভাগ নগরের অবদান। জনসংখ্যার ৩৩ ভাগ হয়ে নগরগুলো জিডিপিতে প্রায় দ্বিগুণ ভূমিকা রাখছে। এটা যখন ৭০ থেকে ৮০ ভাগ হবে, তখন এর ভূমিকা আরও বাড়বে। নগরায়ণ দেশের অর্থনীতিকে সচল করে। কেননা নগরেই উচ্চমাত্রার উৎপাদন প্রক্রিয়ার অধিকাংশ সম্পন্ন হয়।

দেশ রূপান্তর : তাহলে কি নগরে বসবাসরত জনগোষ্ঠীই এখন অর্থনীতিতে মুখ্য ভূমিকা রাখছে?
নজরুল ইসলাম : বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আগে কৃষি বড় ভূমিকা রাখত। কৃষির এই অবদান ছিল ৭০ থেকে ৮০ ভাগ। এখন জিডিপিতে কৃষির অবদান ১৫ থেকে ১৭ ভাগ। অথচ কৃষিতে কর্মসংস্থান ৫০ ভাগ। আর উৎপাদন প্রক্রিয়া অর্থাৎ শিল্প-কারখানার অবদান ৩০ ভাগ। এর বাইরে রয়েছে সেবা খাত। কৃষি আর শিল্পের বাইরে আর যা রয়েছে তা সবই সেবা খাত। যেমন শিক্ষা সেবা, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন সেবা ইত্যাদি। সেবা খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আসে। উৎসবও অর্থনীতির চাকা ঘোরায়। যেমন পয়লা বৈশাখের অর্থনীতি ব্যাপক। আবার রমজানকে কেন্দ্র করে একটা বড় ধরনের অর্থনীতি পরিচালিত হয়। কোরবানিরও বড় অর্থনৈতিক ভূমিকা রয়েছে। এগুলো হলো উৎসব সেবা। আর শিল্প এবং সেবার অধিকাংশই নগরকেন্দ্রিক। তাই নগরের অর্থনৈতিক ভূমিকা বিশাল। অর্থনীতির একটা বড় অংশ আবর্তিত হয় নগরকে কেন্দ্র করে। দেশের জিডিপিতে ঢাকা শহরের অবদান অনেক। দেশের জনসংখ্যার ১০ ভাগ ধারণ করে ঢাকা জিডিপিতে প্রায় ৩৫ ভাগ অবদান রাখে।

দেশ রূপান্তর : দেশে নগরায়ণের ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যাগুলো কী বলে মনে করেন?
নজরুল ইসলাম : বাংলাদেশে নগরায়ণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। প্রথম সমস্যা হলো কর্মসংসস্থানের সমস্যা। শহরে শিক্ষিত এবং অশিক্ষিত দুই ধরনের লোকই প্রবেশ করে। কিন্তু তাদের সবার জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নেই। পরিবহন সমস্যাও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আগে উত্তরা থেকে মতিঝিল আসতে ৪৫ মিনিট লাগত। এখন আড়াই থেকে তিন ঘণ্টাও লেগে যায়। এটা সুষ্ঠু নগরায়ণের পথে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা। এ ছাড়া আবাসন সমস্যা রয়েছে। এই সমস্যাগুলোর বাইরে আরও অনেক সমস্যা রয়েছে। নগরায়ণের জন্য আরেকটি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সেটি হলো বৈষম্য। নগরে ব্যাপক মাত্রার বৈষম্য রয়েছে।

বাংলাদেশে নগরায়ণ আরও যেসব প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে সেগুলো হলো অদক্ষতা, দুর্নীতি ও পরিকল্পনার অভাব। পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের জন্য অবশ্য প্রধানমন্ত্রী এবার দেশের পরিকল্পনায় বেশ জোর দিয়েছেন। তিনি ২১০০ সাল পর্যন্ত ডেল্টা প্ল্যান প্রণয়ন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রতিটা সেক্টরকে ধরে এই পরিকল্পনা করেছেন। এর মধ্যে একটা অংশ রয়েছে নগরায়ণ ও জনপদ সংক্রান্ত পরিকল্পনা। রাজধানী ঢাকাকে নিয়েও পরিকল্পনা হয়েছে। চট্টগ্রাম, খুলনাসহ বিভাগীয় শহরগুলোর জন্যও পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি ৫০০টি উপজেলা ও উপজেলা শহরের পরিকল্পনাও থাকবে। তাই এটা বলাই যায় যে, বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ণ হচ্ছে এবং দেশ সমৃদ্ধির পথে হাঁটছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত