বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থার মাস পার

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:০৫ এএম

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থার এক মাস পূর্ণ হচ্ছে আজ শুক্রবার। উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো অনশন চলছে। টানা অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েন চার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ৫২ জন শিক্ষক।

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা গত বুধবার অনশন শুরু করেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন শিক্ষক সমিতির নেতারা। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপাচার্য অপসারণ দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য এস এম ইমামুল হকের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ সম্বোধনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের সূত্রপাত। ওই বক্তব্যের প্রতিবাদে আন্দোলনের মুখে ২৮ মার্চ ক্যাম্পাস এবং হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা আন্দোলন শুরু করেন। টানা বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ দিনের ছুটিতে যান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। উপাচার্যের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে ৫২ জন শিক্ষক বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম এবং তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বনি আমিন বলেন, এই উপাচার্যের সঙ্গে তারা আর কোনো কাজে অংশ নিতে চান না। তাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন।

এক মাস ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ক্ষতির আশঙ্কা করে ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যৌক্তিক। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির উচিত দ্রুত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।’

বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কমিটির সদস্য বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইউনুস বলেন, ‘উপাচার্য ১৫ দিনের ছুটির আবেদন করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তার অবশিষ্ট মেয়াদ (২৭ মে) পর্যন্ত একটি ছুটির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরে আবেদনটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। এই প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে। কিন্তু শিক্ষার্থী এটা বুঝতে চাচ্ছে না।’ আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম বলেন, তারা আর কোনো প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করছেন না। তারা এখন উপাচার্যের অপসারণের ঘোষণা চান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত