ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ডেঙ্গুকে বৈশ্বিক সমস্যা বলে বর্তমান পরিস্থিতিকে খাটো করে দেখানোর কোনো অবকাশ নেই।
বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর দোস্ত বিল্ডিং এ দলীয় কার্যালয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন এসব মন্তব্য করেন।
সাবেক মন্ত্রী মেনন বলেন, অন্যদেশের পরিসংখ্যানে দেশের জনগণের কোনো আগ্রহ নেই। বরং আমাদের জনগণকে আমরা রক্ষা করতে পারছি কি না সেটাই মূল বিবেচ্য।
চট্টগ্রাম জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শরীফ চৌহানের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু হানিফ।
সভায় পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, সমন্বিতভাবে এবং সময়মত কাজ করলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আজকে এ ধরণের রূপ নিত না। আসলে ওষুধ কেনার দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে জনগণের এ ভোগান্তি। আরো দুর্ভাগ্যজনক যে যেখানে দায়িত্ব নিয়ে কথা বলা প্রয়োজন সেখানে মন্ত্রীরা পর্যন্ত অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন। ডেঙ্গুকে বৈশ্বিক সমস্যা বলে খাটো করে দেখানোর কোনো অবকাশ নেই। অন্য দেশে কত জন মারা গেছে, তার চেয়ে আমরা কত কম এ পরিসংখ্যানে জনগণ আগ্রহী নয়। আমাদের জনগণকে আমরা রক্ষা করতে পারছি কি না এবং তাদের চিকিৎসা সেবা দিতে পারছি কি না সেটাই হচ্ছে বিবেচ্য বিষয়। চট্টগ্রামের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য বলে মন্তব্য করেন রাশেদ খান মেনন।
তিনি বলেন, তবে এটা আশার কথা জনগণ নিজেরাই এখন এগিয়ে আসছে। এবং তাদের সচেতন প্রয়াসের মধ্য দিয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি শিগগির নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।
সরকারি মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ও নার্সদের অবদানকে সাধুবাদ জানিয়ে রাশেদ খান মেনন বলেন, আমাদের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর চিকিৎসক এবং নার্সরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, এটা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক ঘটনা। বেসরকারি হাসপাতাল সমূহেরও উদ্যোগ নিতে হবে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজনৈতিক দলগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে রাশেদ খান মেনন বলেন, পাশাপাশি রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। প্রতি পাড়ায়-মহল্লায় মানুষকে সংগঠিত করে এলাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং এডিস মশার উৎস ধ্বংস করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে সফল হওয়া আরো সহজ হবে।
