চাঁদার দাবিতে দোকান ভাঙচুর চবি ছাত্রলীগের

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:১৯ এএম

চাঁদার দাবিতে দোকান ভাঙচুর ও মালিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের একাংশ ‘বাংলার মুখ’ গ্রুপের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলস্টেশনসংলগ্ন ‘মদিনা কুলিং কর্নারে’ এ ঘটনা ঘটে। আহত দোকানমালিক মোহাম্মদ সেলিম চট্টগ্রামের হাটহাজারী মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি আছেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্তরা চবি ছাত্রলীগ নেতা আমীর সোহেল ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। তবে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ‘বাংলার মুখ’ গ্রুপের নেতা আমীর সোহেল।

আহত দোকানমালিক সেলিমের বড় ভাই মোহাম্মদ হালিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ করে ‘বাংলার মুখ’ গ্রুপের কয়েকজন কর্মী দোকানে এসে ১ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। আমার ভাই তা দিতে না চাইলে তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে তারা ১ হাজার টাকার বদলে ৫০০ টাকা দাবি। তবে সেলিম চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে মারধর ও দোকান ভাঙচুর শুরু করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাটহাজারী থানায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেনের সহায়তায় তাকে হাটহাজারী মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আমীর সোহেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাতে জুনিয়রা দোকানে নাশতা করতে গেলে দোকানদার তাদের সকালের বাসি খাবার দেয়। বাসি খাবার দেওয়ার প্রতিবাদ করতে গেলে দোকানদার জুনিয়রদের ওপর চড়াও হয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে তারা দোকানদারকে পুলিশের কাছে তুলে দেয়, সেখানে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে ক্যাম্পাসের দোকানগুলোতে নিম্নমানের খাবার দিয়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে। এসব বন্ধে আমরা খুব দ্রুতই উপাচার্য ম্যামকে স্মারকলিপি দেব।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছি। এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত