অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০ উপলক্ষে বের হয়েছে ‘বাংলাদেশের রকগাথা: আজম খানের উত্তরাধিকার’। বইটি রক গায়ক মাকসুদুল হকের ‘হিস্ট্রি অব বাংলাদেশ রক: দ্যা লেগাসি অব আজম খান’-এর অনুবাদ। ভাষান্তর করেছেন তানভীর হোসেন।
বইটি বের করেছে বুকিশ। প্রচ্ছদ রাজীব দত্ত। পরিবেশক চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন। মেলায় স্টল নম্বর ৬০৭।
অনুবাদক তানভীর হোসেন বলেন, “আজম খান কেবল একজন মুক্তিযোদ্ধা বা রকস্টারই ছিলেন না তিনি ছিলেন একজন নিঃস্বার্থ সংগঠক, অ্যাকটিভিস্ট। তিনি জানতেন যে যুদ্ধে জীবন বাজি রেখে দেশকে স্বাধীন করেছেন সেটিই প্রকৃত স্বাধীনতা নয়, আসল যুদ্ধ তো সবেমাত্র শুরু। আর সেই বোধকে বুকে নিয়েই আজম খান তার প্রকৃত যুদ্ধটি শুরু করেন। আজম খানের সংগীত নিয়ে সেই অর্থে কোনো কাটাছেঁড়া আমি আজ পর্যন্ত কোথাও দেখিনি। তাকে বা তার সংগীত নিয়ে কোনো বইও লেখা হয়নি মনে হয়।”
তিনি আরও বলেন, “জাতি হিসেবে আমরা যে সব সময়ই ইতিহাস বিমুখ এটি তার একটি প্রত্যক্ষ প্রমাণ। বাংলাদেশের প্রথিতযশা রকার, কলামিস্ট, চিন্তক ও অ্যাকটিভিস্ট মাকসুদুল হকের ‘হিস্ট্রি অব বাংলাদেশ রক: দ্যা লেগাসি অব আজম খান’ আমাদের সেই ইতিহাস বিমুখতার মুখে একটি তীব্র চপেটাঘাত। রকাহোলিক-ফ্যানজিন এর কাজ করতে গিয়ে তার সঙ্গে আমার দেখা হয়ে যায়। তার মুখেই শুনতে পারি একাডেমিয়া ডট এডু ওয়েবসাইটে আজম খানকে নিয়ে তার এই লেখাটির ব্যাপারে। তিনি সেদিন আক্ষেপ করে বলেছিলেন গত প্রায় বেশ ক'বছর অনেককেই লেখাটি বাংলায় অনুবাদের অনুরোধ করেছেন কিন্তু কেউ আগ্রহ দেখায়নি। সে যাক, ওই দিন রাতেই আমি তা করা শুরু করি। ফলশ্রুতিতে লেখাটির শুরুর দিকের একটি অংশ রকাহোলিক-এর প্রথম সংখ্যায় (প্রকাশকাল: ২০১৯, অমর একুশে গ্রন্থমেলা) প্রকাশিত হয়। বেড়ে ওঠার সময় থেকে পরিণত বয়স পর্যন্ত আজম খানকে কাছ থেকে দেখেছেন মাকসুদুল হক, স্বল্পভাষী মানুষটির পেছনে লেগে থেকে থেকে বের করে আনা কথাগুলো কখনো হুবহু কখনো বা নিজের বিশ্লেষণধর্মী মনন দিয়ে লিপিবদ্ধ করেছেন তিনি।”
তানভীর হোসেনের জন্ম বগুড়ায়। পড়াশোনা করেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানে। কবিতার সঙ্গে মূলত তার সখ্যতা। বিশ্বসাহিত্য, সংগীত, সিনেমা নিয়েও তার আগ্রহ দেখা যায়। কবি উপল বড়ুয়ার সঙ্গে সম্পাদনা করেন ফ্যানজিন রকাহোলিক। এবারের মেলায় তার আরও প্রকাশিত হয়েছে- নিহিল পারকাসন (কবিতা), আ ওয়াইল্ড শিপ চেজ (হারুকি মুরাকামি, অনুবাদ), পাবলো নেরুদার সাক্ষাৎকার। এর আগে প্রকাশিত বই- রাতের অপেরা (কবিতা)।
