এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক লেখক সা্ফ্ফাত আহম্মদ খানের ‘কম্পিউটার হ্যাকিং ও ফরেনসিক’। বইটিতে তিনি সহজ বাংলায় সাইবার সিকিউরিটি বা অনলাইন নিরাপত্তার বিষয়ে খুঁটিনাটি তথ্য তুলে ধরেছেন।
বইটি প্রকাশ করেছে ‘সাইবার বার্তা’। বইটিতে ১৫টি অধ্যায়ে সাইবার সিকিউরিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে গ্রাফও দেয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে- সাইবার জগৎ কি, বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং আমাদের জীবনে সাইবার জগতের প্রভাব, সাইবার ক্রাইম কি, সাইবার ক্রাইমের প্রকারভেদ। হ্যাকার, হ্যাকারের প্রকারভেদ, ইথিক্যাল হ্যাকারের ভূমিকা, সাইবার ক্রাইম বনাম হ্যাকিং। হ্যাকিংয়ের বিভিন্ন কৌশল, কি লগার, ফিসিং, স্ফুফিং, হ্যাকিং হার্ডওয়্যার। হ্যাকিং অপারেটিং সিস্টেম, পেনিস্ট্রেশন টেস্টিং কি, কালি লিনাক্স কি। ওয়াই-ফাই হ্যাকিং, সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যান্ড্রয়েড হ্যাকিং। ম্যালওয়্যারের খুঁটিনাটি।
বইটির লেখক সাফ্ফাত আহম্মদ খান বলেন, হ্যাকিং নিয়ে সবার কৌতূহলের শেষ নেই। হ্যাকিং ও সাইবার সিকিউরিটি একসূত্রে গাঁথা। হ্যাকিং থেকে বাঁচতে হলে আগে জানতে হবে হ্যাকার কিভাবে কাজ করে। বইটিতে হ্যাকিং শেখানো হয়নি শুধুমাত্র হ্যাকারের কৌশলগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যাতে হ্যাকিং থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারেন। বইটিতে সাইবার ফরেনসিক নিয়ে কাজ করারও ধারণা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি বইটি পড়লে সাইবার সিকিউরিটি সম্পর্কে সবার মধ্যে একটা ধারণা তৈরি হয়ে যাবে।
তবে বইটি সম্পর্কে লেখকের সতর্কবাণী হলো, এই বইয়ের সব কনটেন্ট কেবলই শিক্ষণীয় ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য। কেউ কোনো ক্ষতিকর কাজে জড়িত হলে অবশ্যই সেটা সাইবার সিকিউরিটি আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বইটির ভূমিকা লিখেছেন বিশিষ্ট প্রযুক্তি বিষয়ক লেখক, দৈনিক আজাদির অনলাইন নিউজ ইনচার্জ প্রবীর বড়ুয়া। তিনি ‘সাবধানের মার নেই’ শিরোনামে ওই ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন, বর্তমান যুগে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার এতটায় বেড়ে গেছে যে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত প্রায় সবাইকে এ জগতে বিচরণ করতে হয় দিনের অনেকটা সময়। আর এ বিচরণটা যদি নিরাপদ না হয়, তাহলে নিজের অজান্তেই ঘটে যেতে পারে মারাত্মক সাইবার দুর্ঘটনা অর্থাৎ ওই ব্যবহারকারী কোনো হ্যাকারের কবলে পড়ে হারাতে পারেন ফেসবুক, ই-মেইল, কিংবা ওয়েবসাইট। সুতরাং সাবধান থাকতে হবে বিপদে পড়ার আগেই।
