দেশের প্রথম ভেটেরিনারি ল্যাবের লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ায় বিলম্ব

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৯:১৪ পিএম

দেশে আমদানিকৃত মৎস ও পশু খাদ্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিমুক্ত কি না তা নিশ্চিত করতে পাঁচটি বাধ্যতামূলক রাসায়নিক পরীক্ষা করতে হয়। তবে তার জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ল্যাব পোল্ট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিআরটিসি), চট্রগ্রাম সময়ের তার সক্ষমতা বাড়াতে পারেনি। দিন দিন তাদের সেবার মান কমে যাওয়ায় আমদানিকারকরা নানাভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়াও শুল্ক কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা অসৎ উদ্দেশ্যে একই পরীক্ষা বিভিন্ন জায়গায় করিয়ে আমদানিকারকদের চরমভাবে হয়রানি করে চলছে বলেও অভিযোগে জানা গেছে।

ফলশ্রুতিতে আমদানিকারকদের কয়েকটি সংগঠনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার মৎস ও পশু খাদ্যের গুণগত মান যাচাই করার জন্য পিআরটিসির আদলে বেসরকারী খাতে একটি ল্যাব স্থাপনের জন্য অনুমতি প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। এই খাতে বিনিয়োগের জন্য উদ্যোক্তাদের উৎসাহ প্রদান করে সরকার।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফসল হিসেবে কয়েকজন সাহসী উদ্যোক্তা অক্লান্ত পরিশ্রম করে প্রতিষ্ঠা করেন ‘মুসকাল’ ল্যাব। এই ল্যাবটি শুধু দেশীয় মানে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রতিষ্ঠিত বলে সংশ্লিষ্টরা জানা গেছে।

তারা সেবার মান বৃদ্ধি ও দ্রুততম সময়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পাঁচ বিজ্ঞানীসহ প্রায় ৩০ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নিয়োগ দিয়েছে।

মুসকাল জানায়, চলতি বছরেরর জুলাইয়ে ল্যাবটি পরিদর্শন করে লাইসেন্স প্রদানের জন্য পশুরোগ বিধিমালা/২০০৮ (বাংলাদেশ গেজেট; অতিরিক্ত সংখ্যা নভেম্বর, ০৪/২০০৮) এর বিধি ১৮ এবং বিধিমালার তফসিল ১৭ (চ) মোতাবেক উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করা হয়। যার প্রেক্ষিতে পরিচালক (প্রশাসন) ড. শেখ আজিজুর রহমানকে পরিদর্শন কমিটির প্রধান করে একটি কমিটিও গঠন করা হয়।

তবে ল্যাবটি সরেজমিনে পরিদর্শনে দেরি হওয়ায় অক্টোবরের ৮ তারিখ উদ্যোক্তারা আবার ল্যাবটি পরিদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করে।

যার পরিপ্রেক্ষিতে ২২ নভেম্বর চট্রগ্রাম বিভাগীয় প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ও তার প্রতিনিধি ল্যাবটি পরিদর্শন করে এটি বিশ্বমানের ও এশিয়ার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ বলে মত দেন।

এরপর শুক্রবার উর্ধতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ওই কমিটির ল্যাবটি পরিদর্শনের কথা থাকলেও পরিদর্শন বাতিল করা হয় এবং এক সপ্তাহ পর পরিদর্শনের নতুন তারিখ দেওয়া হবে বলে উদ্যোক্তাদের জানানো হয়।

এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উদ্যোক্তা বলেন, ‘১ এপ্রিল, ২০১৯ সাল থেকে প্রতি মাসে ফ্লোর ভাড়া ও অন্যান্য খরচ বাবদ বাবদ পাঁচ-সাত লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। এ ছাড়া ল্যাবটি বিশ্বমানের পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সাত-আট কোটি টাকা বিনিয়োগ করে উদ্যোক্তারা এখন পথে বসার উপক্রম। মৎস ও পোল্ট্রি শিল্পের উন্নয়নে  মৎস ও পশুখাদ্য আমদানিকারকদের পাশে দাঁড়াতে উদ্যোক্তারা তাদের সবটুকু ঢেলে দিলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় লাইসেন্স প্রাপ্তিতে দেরি হওয়ায় ল্যাব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, অফিস ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদি দিতে না পারায় সম্পূর্ণ অটোমেটেড এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে গড়া দেশের গর্বের এই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হতে বসেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত